kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

শিশুদের নিয়ে শীতশঙ্কা

রাজশাহী শিশু হাসপাতাল
সাত বছরেও অসমাপ্ত ভবন

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুদের নিয়ে শীতশঙ্কা

রাজশাহীর পুরাতন টিবি হাসপাতালের পূর্ব পাশে অসমাপ্ত শিশু হাসপাতাল ভবন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাত বছরেও শেষ হয়নি রাজশাহী শিশু হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫৯ শয্যার এই শিশু হাসপাতাল নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর আগেই। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে তিন ভাগের এক ভাগ কাজ এখনো বাকি। 

এদিকে ভাড়া বাড়িতে থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন অভিভাবকরা। অন্য হাসপাতালগুলোতেও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। শীতে শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।

নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে না পারলে তাঁকে দরপত্রের প্রাক্কলিত মূল্যের অংশ থেকে নিয়মমাফিক জরিমানাসহ নানা ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সেটি না করেই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত মেয়াদেও কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে রাজশাহীতে সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর ২০১৬ সালে রাজশাহী নগরীর বহরমপুর এলাকায় ১৫৯ শয্যার শিশু হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পান হোসেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার আব্দুর রশিদ। ২০১৮ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই মেয়াদ বাড়ানো হয় চলতি বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত।

রাজশাহীর আসলাম উদ্দিন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার শিশুর বয়স দুই বছর। কয়েক দিন আগে হঠাৎ ওর জ্বর আসে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। পরে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করাতে হয়।’

রাজশাহী শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ বি সিদ্দিক বলেন, ২০১২ সাল থেকে ভাড়া একটি বাসায় কোনো মতে চলছে রাজশাহী শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম। তবে সরকারি ভবনটি চালু হলে এ অঞ্চলের শিশুদের চিকিৎসার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হতো।

কাজ শেষ না করার বিষয়ে ঠিকাদার আব্দুর রশিদ বলেন, গণপূর্ত বিভাগ কাজ বুঝিয়ে দিতেই দেরি করেছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। তবে দ্রুত শেষ করা হবে।

হাসপাতালটির নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সেখানে পুরনো ভবন ভাঙতে কিছুটা দেরি হওয়ায় আমরা সাইট বুঝিয়ে দিতে পারিনি সময়মতো। তবে একটু দেরিতে কাজ শুরু করলেও সেটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা যেত। এখনো প্রায় ২০ ভাগ কাজ বাকি আছে। আশা করছি দ্রুতই শেষ হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা