kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

১২ কোটি টাকার এমপিও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২ কোটি টাকার এমপিও বাণিজ্য

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) ভুক্তির নামে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভাগের আট জেলায় গত এক বছরে আড়াই হাজার শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করতে ঘুষ লেনদেন হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। শিক্ষা অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদ এসব দুর্নীতি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, নওগাঁর নিয়ামতপুরের বালতর ডিগ্রি কলেজের চারজন শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার করে মোট দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। বগুড়া অর্নেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিন লাখ টাকা, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর মহিলা কলেজ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মহিলা কলেজ থেকে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব টাকা নগরীর সাহেববাজারের একটি মুদি দোকানদারের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল মহিলা কলেজের শিক্ষকদের এমপিও করতে দুই লাখ টাকায় চুক্তি হয়। তবে টাকা না পাওয়ায় ফাইল আটকে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব দুর্নীতির মূলে রয়েছেন রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদ। তাঁদের মধ্যে ড. আবু রেজা আজাদ একসময় গাইবান্ধার এক বেসরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন। কলেজটি জাতীয়করণের পর ক্যাডার হিসেবে আত্তীকৃত হয়ে ২০১৭ সালে তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর তদবিরের মাধ্যমে ডেপুটেশনে রাজশাহী শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি পরিচালক ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে মিলেমিশে অর্থের বিনিময়ে এমপিওভুক্তির কাজগুলো করে থাকেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক অধ্যাপক জানান, আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস রাজশাহীর কর্মকর্তারা সাধারণ শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। তাঁর এলাকার কয়েকজন শিক্ষককে হয়রানি করা হয়েছে বলেও জানান রাবির এই অধ্যাপক। তিনি আরো জানান, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় আড়াই হাজার প্রভাষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১২ কোটিরও বেশি টাকা ঘুষ আদায় করা হয়েছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার ইকবাল বাদল বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন, গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ দরকার। দুর্নীতিবাজদের লাগাম টানা না গেলে সরকারের অর্জন ম্লান হয়ে যাবে।’

আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস রাজশাহীর পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গত মার্চ মাস থেকে এমপিওভুক্ত কার্যক্রম চলছে। সব আবেদন অনলাইনে করা হয়। এখানে আর্থিক লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছুু সুপারিশ তো আছেই। তাই অনেক চাপ নিয়ে কাজ করতে হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা