kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

লালমনিরহাটে লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ

‘মামলাবাজ’ শিক্ষকের বিচার দাবি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লালমনিরহাটে লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ

লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গতকাল এক দিনমজুরের লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ছবি : কালের কণ্ঠ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ‘মামলাবাজ’ এক কলেজ শিক্ষককে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে গতকাল লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে খলিলুর রহমান (৩২) নামের এক দিনমজুরের মরদেহ রেখে বিক্ষোভ করেন অসংখ্য নারী-পুরুষ। এতে প্রায় তিন ঘণ্টা ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

নিহত খলিলুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিরাম গ্রামের প্রয়াত আব্দার রহমানের ছেলে। নিহতের স্ত্রী দুই শিশু সন্তান নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

গত বৃহস্পতিবার কলেজ শিক্ষক তামান্না শিরিনের করা একটি মামলায় জামিন নিতে আদালতে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন খলিলুর রহমান। পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার বিকেলে মারা যান তিনি। জানা গেছে, তামান্না কালীগঞ্জের উত্তর বাংলা কলেজের অনার্সের (ইংরাজি বিভাগ) প্রভাষক। তিনি উপজেলার কাশিরাম গ্রামের প্রয়াত বজলে হোসেন মুসতাযীরের মেয়ে।

অবরোধ চলাকালে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত এক যুগ ধরে সামান্য বা সাজানো ঘটনায় পুলিশকে প্রভাবিত করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটিয়েছেন তামান্না। তিনি বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে ১৫টি মামলা করেন সাধারণ মানুষের নামে। তার একের পর এক মামলা ও পুলিশি হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। তামান্নার অন্যায়ের শিকার লোকজন পাল্টা মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়না। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার পরেও কোনো প্রতিকার মিলে না। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ অক্টোবর নিহত খলিলুরসহ ১৪ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা মামলা করেন তামান্না শিরিন। সেই মামলায় জামিন নেওয়ার তিনদিনের মাথায় আরও একটি মামলা করা হয়। এ মামলায় গত বৃহস্পতিবার জামিন নিতে আদালতে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান খলিলুর।

অবরোধের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আতিকুল ইসলাম, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসেন ও কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফরহাদ মণ্ডল। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ তামান্নার বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার আশ্বাসের পরেও উত্তেজিত জনতাকে থামাতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে বাড়িতে আসার সময় সেখানে আটকা পড়েন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। পরে তিনি ইউএনও ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন শান্ত হয়ে অবরোধ তুলে নেয়। পরে নামাজে জানাজা শেষে খলিলুর রহমানের মরদেহ দাফন করা হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা