kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

ফি নিয়ে ফাঁকি

কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সিরাজগঞ্জ ও কাজীপুর প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেটের সমস্যা নিয়ে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন আসাদুল ইসলাম। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালের ল্যাবরেটরি থেকে রক্তের দুটি নমুনা পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ১৪০ টাকা ফি জমা দিয়ে তাঁর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করান। তিনি ১৪০ টাকা জমা দিলেও হাসপাতালের রেজিস্টারে উল্লেখ করা হয় ৬০ টাকা।

আসাদুলের মতো অসংখ্য রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাবদ সংগৃহীত অর্থের বড় একটি অংশ এভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের কাছ থেকে সরকারি ধার্যকৃত অর্থের উল্লেখ করে রশিদ কাটা হলেও সরকারি রেজিস্ট্রারে টাকার অঙ্ক ওঠানো হচ্ছে অনেক কম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীদের রশিদ দিয়ে টাকা সংগ্রহ করা হলেও হিসাব রেজিস্টারে ওঠানো হচ্ছে না। এভাবে প্রতি মাসে আত্মসাৎ করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একটি সূত্র থেকে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবের দায়িত্বে আছেন ইকবাল হাসান। রশিদ লেখেন এমএলএসএস চান মিয়া। রশিদ কাটার পর রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু কোনো রোগী একাধিক পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দিলেও সরকারি খাতায় দেখানো হয় অনেক কম। আবার কোনো রোগীর তিন-চারটি পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দিলেও খাতায় দেখানো হচ্ছে একটি পরীক্ষার হিসাব।

গত ২৬ আগস্ট আসাদুলের পাশাপাশি আশা নামের এক রোগীর তিনটি পরীক্ষা করানো হয়। এ জন্য ওই রোগী ১২০ টাকা জমা দিয়েছেন। অথচ সরকারি খাতায় ওই রোগীর পরীক্ষার কোনো নামই ওঠানো হয়নি।

এর আগে গত ৩০ জুলাই শাকিল নামের এক রোগীর তিনটি পরীক্ষার জন্য ২৫০ টাকা নিয়ে সরকারি খাতায় জমা দেখানো হয়েছে মাত্র ২০ টাকা। এমনি করে গত ১০ আগস্ট নাসিম, ১২ আগস্ট রাজ ভানুর কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে সরকারি খাতায় এর অনেক কম জমা দেখানো হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন ইকবাল হাসান সরকারি অর্থ পকেটে ভরেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগীকে ডাক্তার এক থেকে চারটি পরীক্ষা করতে দেন। সেই হিসেব মোতাবেক প্রায় ৬০০ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। কিন্তু রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগৃহীত অর্থের পুরো অংশ সরকারি খাতে জমা দেওয়া হয় না। ইকবাল হাসান সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি অস্বীকার করেন। কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোমেনা পারভীন পারুল জানান, হাসপাতালে নানা অভিযোগের তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান অবস্থায় হাসপাতালের সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। তার পরও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তার তদন্ত করা হবে।

মন্তব্য