kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

মেম্বার-ডিলারের পেটে চাল

সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীলফামারীর সৈয়দপুরে বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও একই ওয়ার্ডের ডিলারের বিরুদ্ধে ১০ টাকা কেজি দরের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার ও বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি বরাবর আলাদা লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

একই ওয়ার্ডের পাঁচ কার্ডধারী মো. জাহেদুল, আব্দুল খালেক, মো. মজিদুল, অশ্বিনী চন্দ্র শীল ও রণজিৎ চন্দ্র শীল এসব অভিযোগ করেছেন।

এর মধ্যে অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত মো. আবু সাঈদ চৌধুরী ওরফে বাবু চৌধুরীর ডিলারশিপ বাতিলসহ তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউপি সদস্য মো. মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। 

জানা যায়, সারা দেশের মতো সৈয়দপুরেও ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। বছরের মার্চ-এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে ডিলারের মাধ্যমে সুবিধাভোগী কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিক্রি করা হয়। প্রত্যেক সুবিধাভোগী মোট ৩০ কেজি চাল কেনার সুযোগ পান। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে সুবিধাভোগী আছেন মোট চার হাজার ২১৪ জন। 

অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে এ বছরের চলতি মাস পর্যন্ত মোট ১৯ মাস চাল বিক্রি করেছেন ডিলার সাঈদ চৌধুরী। কিন্তু কার্ডধারী জাহেদুল, খালেক, মজিদুল, অশ্বিনী ও রণজিৎ মাত্র দুই থেকে তিন মাসের চাল উত্তোলন করতে পেরেছেন। ইউপি সদস্য মোতালেব ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের কার্ডগুলো হাতিয়ে নিয়েছেন। পরে ডিলার সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁদের কার্ডের চাল তুলে আত্মসাৎ করেছেন।

এ ছাড়া ইউপি সদস্যের মোবাইল নম্বরটি আরো ১৮ জন সুবিধাভোগীর কার্ডে ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বোতলাগাড়ী ইউপি সদস্য মোতালেব জানান, সামনেই ইউপি নির্বাচন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। এ সময় তিনি দাবি করেন, ‘কোনো কার্ডে আমার মোবাইল নম্বর নেই। কেউ আমার নম্বর দিয়ে ভুয়া তালিকা তৈরি করে অফিসে জমা দিয়েছেন। তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে।’

ইউএনও ও উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি মো. নাসিম আহমেদ বলেন, ‘অনিয়মের দায়ে সাঈদ চৌধুরীর ডিলারশিপ বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাল আত্মসাতের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সুবিধাভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির উপদেষ্টা মো. মোখছেদুল মোমিন জানান, সরকারের কার্যক্রমকে বিতর্কিত করতেই ইউপি সদস্য ও ডিলার এ কাজ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

মন্তব্য