kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ভয়ংকর প্রতারণা

যশোর প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ভয়ংকর প্রতারণা

যশোরের পাশাপাশি সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার নামে ভয়ংকর প্রতারণা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে যশোর জেলা সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। গতকাল দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সর্বশেষ নির্বাচিত কমান্ডার রাজেক আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলার মুজিববাহিনী প্রধান মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা রাজেক আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে একটি প্রতারকচক্র যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই চক্রের প্রধান ভূমিকা পালন করছেন বগুড়ার মান্নান সরকার নামের এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির খুলনা বিভাগের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন নড়াইলের তুলারামপুরের একাধিক নাশকতা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলার আসামি রওশন আলম। প্রতিষ্ঠানটির নামে একটি ওয়েবসাইটও খোলা হয়েছে। সেখানে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৭২টি মুক্তিযুদ্ধ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনুমোদন দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন রয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ধরনের কোনো অনুমোদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চক্রটি এরই মধ্যে যশোরে চারটি মুক্তিযুদ্ধ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ভুয়া নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে। তারা এসব এলাকার সরলমনা মুক্তিযোদ্ধাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য করে চলছে। এলাকায় সামান্য টিনের ছাউনি তুলে সেখানে মোটা অঙ্কের টাকায় শিক্ষক-কর্মচারীসহ মোট ৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অধ্যক্ষ ১২ লাখ, উপাধ্যক্ষ ১০ লাখ ও প্রধান শিক্ষক পদে আট লাখ টাকা নির্ধারণ করে তা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ঘোপ মুক্তিযোদ্ধা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নামে অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য নূর মোহাম্মদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা, উপাধ্যক্ষ সুজয় কুমার সুরের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ও প্রধান শিক্ষক পদের জন্য দিগন্ত হরির কাছ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজেক আহমেদ আরো জানান, মুক্তিযোদ্ধা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নামে এ প্রতারণা বাস্তবায়নে মান্নান সরকার সারা দেশে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তুলেছেন। তাঁর সহায়তায় রওশন আলম যশোরে একটি চক্র গড়ে তোলেন। চক্রটি এরই মধ্যে যশোর সদর, বাঘারপাড়া, মণিরামপুর ও শার্শা উপজেলায় চারটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে সেখানকার শিক্ষক নিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলার ঘোপ এলাকার হামিম এক লাখ ৫০ হাজার, ঘোপ কচুয়া এলাকার নিপু তিন লাখ, একই এলাকার তৈমুর রহমান তিন লাখ, তবিবুর রহমান তিন লাখ, রসুলকাটি এলাকার গণেশ পাল পাঁচ লাখ, দিয়াপাড়ার আব্দুল্লাহ এক লাখ ৫০ হাজার, জহির এক লাখ এবং ইব্রাহিম মাস্টার ৯০ হাজার টাকা দিয়েছেন ওই চক্রটিকে।

এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের শুরুতে বেতন ও দ্রুত সময়ে জাতীয়করণ করা হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির খুলনা বিভাগের সমন্বয়কারী রওশন আলমের খালাতো ভাই ইদ্রিস আলী আমাকে নানাভাবে প্রলোভন দেখায়। পরে তিনি আমার কাছ থেকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য ১২ লাখ টাকা দাবি করলে তাঁকে ১২ লাখ টাকা দিই।’ এ ব্যাপারে বগুড়ার মান্নান সরকারকে ফোন করে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই তিনি বলেন, ‘আমার অফিসে আসেন।’ এ কথা বলেই ফোন কেটে দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা