kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সিএইচসিপিকে চেনে না গ্রামবাসী

কিশোরগঞ্জের মনোহরপুর কমিউনিটি ক্লিনিক

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি উম্মে সুরাইয়া মনিকে চেনে না গ্রামবাসী। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে এ পদে চাকরি নিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এসব নিয়ে এলাকার লোকজন নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এ ব্যাপারে ক্লিনিকের জমিদাতা ওমর ফারুক মিলন কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ারের (সিবিএইচসি) লাইন ডিরেক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার সার্ভিস প্রভাইডার (সিএইচসিপি) উম্মে সুরাইয়া মনি দানাপাটুলি ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সতাল এলাকায়। তিনি ভুয়া ঠিকানা দিয়ে জালিয়াতি করে এ চাকরি নিয়েছেন।

সিবিএইচসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু উম্মে সুরাইয়া মনি দানাপাটুলি ইউনিয়নের বাসিন্দা না হয়েও সিএইচসিপি পদে নিয়োগ পেয়েছেন। জমিদাতা ওমর ফারুক মিলন আরো বলেন, সিএইচসিপিকে মনোহরপুর গ্রামের কেউ চেনেন না। এমনকি ইউনিয়নের লোকজনের কাছেও অপরিচিত। অথচ তিনি মনোহরপুরের ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন।

জানা গেছে, সিএইচসিপি পদে লোক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি দেয় সিবিএইচসি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর উম্মে সুরাইয়া মনিকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে সিএইচসিপি পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ক্লিনিকটি চালু হয়নি। স্থানীয়রা বলছে, এ ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে বসতে দেখেনি তারা।

অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করে উম্মে সুরাইয়া মনি বলেন, তাঁর বাবা অনেক আগেই ঢাকা চলে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর জন্ম ও পড়াশোনা। বাবার ঠিকানায় তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেননি।

দানাপাটুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন দুলাল বলেন, ‘যিনি মনোহরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁকে আমি চিনি না। তিনি দানাপাটুলি ইউনিয়নের বাসিন্দাও নন। আমি তাঁকে কোনো নাগরিকত্ব সনদ দিয়েছি বলেও মনে পড়ে না। ধারণা করছি, ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ দিয়ে তিনি চাকরি নিয়েছেন।’

বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাজরীনা তৈয়বের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কাজেই এখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ভুয়া ঠিকানায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগটি আমাদের কাছেও এসেছে। আমি এ বিষয়ে করণীয় জানতে সিবিএইচসিতে চিঠি দিচ্ছি। নির্দেশনা পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তা ছাড়া নিয়োগের আগে ঠিকানা যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম রয়েছে। সেটি তখন করা হয়েছিল কি না, তা আমার জানা নেই। কারণ তখন আমি সিভিল সার্জনের দায়িত্বে ছিলাম না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা