kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে

হেলিকপ্টার চলে আসার পর জেলেদের হামলা

চাঁদপুরে আহত ২০ নৌ পুলিশ

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হেলিকপ্টার চলে আসার পর জেলেদের হামলা

চাঁদপুরে ইলিশ রক্ষা অভিযানে জেলেদের হামলায় নৌ পুলিশের অন্তত ২০ সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার সকালে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ছাড়া ঘটনার সময় কোনো জেলে আহত কিংবা আটক হয়েছেন কি না তা জানা যায়নি।

আহতদের মধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে নৌপথে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যরা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

জানা যায়, গতকাল ভোর থেকে জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় পদ্মা-মেঘনা নদীতে অভিযান শুরু করে নৌ পুলিশ। এতে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও অংশ নেয়। একপর্যায়ে হেলিকপ্টারটি ঢাকায় ফিরে গেলেও নৌ পুলিশ তাদের অভিযান অব্যাহত রাখে। এ সময় শতাধিক মাছ ধরার নৌকার তলা ফুটো করে ডুবিয়ে দেয় তারা। সকালে তারা লক্ষ্মীরচরের খালে বেশ কিছু নৌকা দেখে এগিয়ে যায়। এ সময় জেলে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নৌ পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। ফলে আত্মরক্ষার্থে শটগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে তারা।

হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন নৌ পুলিশের সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ফরিদা পারভিন, সহকারী পুলিশ সুপার মো. হেলালউদ্দিন, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইলিয়াস মাতাব্বর, নায়েক মো. শাহজালাল, ইকবাল হোসেন, মুজাহিদুল ইসলাম, মো. মামুন, ফেরদৌস শেখ, নিলয় দেব, কনস্টেবল প্রসেনজিত দাস, আল আমিন, মো. কাউসার ও মো. মোনায়েম। এ ছাড়া নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার ফরিদ আহমেদ ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. হেলালউদ্দিনসহ আরো ছয়জন আহত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে আহত নৌ পুলিশের সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ফরিদা অভিযোগ করেন, লঞ্চ ও স্পিডবোট থেকে নামামাত্র কয়েক শ জেলে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চারদিক থেকে ঘেরাও করে হামলা চালান। 

অন্যদিকে আহত নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার হেলালউদ্দিন জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই জেলেরা তাঁর মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুজাউদৌলা রুবেল জানান, বেশির ভাগ নৌ পুলিশ সদস্যের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। তবে সবাই অনেকটা আশঙ্কামুক্ত। 

চাঁদপুর নৌ থানার ওসি কবির হোসেন খান জানান, হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, মা ইলিশ রক্ষায় গত ১৪ অক্টোবর থেকে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা