kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

সাত রেলক্রসিং অরক্ষিত

নাটোর প্রতিনিধি   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাত রেলক্রসিং অরক্ষিত

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় রেলের ১০টি লেভেলক্রসিংয়ের মধ্যে সাতটিই অরক্ষিত। এই রেলগেটগুলোতে গেটম্যান নেই। আবার কোথাও কোথাও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ফলে ওই সব উন্মুক্ত রেলগেট দিয়ে যানবাহন ও লোকজন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে মাঝেমধ্যেই ঘটছে প্রাণহানী।

অরক্ষিত এই লেভেলক্রসিংগুলো হলো স্বরূপপুর, ঠেঙ্গামারা, মাড়িয়া নিংটিপাড়া, মাড়িয়া, হাড়ডাঙ্গী, মালিগাছা ও গাঁওপাড়া। সব রেলগেটই ঝুঁকিপূর্ণ।

জানা গেছে, উপজেলার সীমানার মধ্যে মালঞ্চি ও লোকমানপুর নামের দুটি রেলস্টেশন রয়েছে। উপজেলার মাঝ বরাবর আব্দুলপুর থেকে পার্বতীপুর অভিমুখে মালঞ্চি রেলস্টেশন ও আব্দুলপুর থেকে রাজশাহী অভিমুখে রয়েছে লোকমানপুর রেলস্টেশন। মালঞ্চি স্টেশনের দুই পাশে রয়েছে পাঁচটি লেভেলক্রসিং। এর মধ্যে মালঞ্চি, ইয়াছিনপুর ও বড়পুকুরিয়া রেলগেটে অনুমোদিত গেটম্যান আছেন। বাকি দুটিতে গেটম্যান নেই। আর লোকমানপুর স্টেশনের দুই পাশের পাঁচটি লেভেলক্রসিংয়ের সবই উন্মুক্ত ও অরক্ষিত। ওই সব রেলগেট ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহন এবং লোকজন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সাধারণ পথচারী ছাড়াও সেখান দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা চলাচল করে।

রেলগেট-সংলগ্ন এলাকাবাসী জানায়, বছর পাঁচেক আগে ইয়াছিনপুর রেলগেট পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় নববধূসহ তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। বছর চারেক আগে বড়পুকুরিয়া রেলগেট পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় রাজ্জাক আলী সরকার নামের একজন মারা যান। মাড়িয়া নিংটিপাড়া রেলগেটে চিথলিয়া গ্রামের ফজিলা নামের এক গৃহবধূ কাটা পড়েছেন। এর আগে মাড়িয়া রেলগেটে গরু নিয়ে পারাপারের সময় মকছেদ নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। ওই রেলগেটে গত তিন-চার বছরে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অন্তত আট থেকে ৯ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ট্রেনে কাটা পড়েন। এর দুই দিন আগে আইয়ুব আলী নামের একজন মারা যান। এ ছাড়া বছর দুয়েক আগে পারাপারের সময় একটি ট্রলি চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে আব্দুল খালেক সরকার নামের একজন মারা যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব রেলগেট পারাপারের সময় নসিমন, খাবারের গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এসব রেলগেটে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে। অটোচালক জহুরুল ইসলাম জানান, রাতে ট্রেনের আলো দেখে ওই সব রেলগেটের ওপর দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হয়। কিন্তু দিনে ট্রেন আসছে কি না তা বোঝা যায় না। ফলে রেলগেটে গাড়ি থামিয়ে দুই পাশ দেখে পারাপার হতে হয়। এর পরও রেল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে নাটোর স্টেশন মাস্টার অশোক কুমার চক্রবর্তী বলেন, রেলের গেটের একটি তালিকা কার্যালয়ে রয়েছে। ওই সাত রেলগেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কি না যাচাই করে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে হাঁটা বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের গেটগুলোতে রেল বিভাগের পক্ষ থেকে পথচারীদের নিজ দায়িত্বে পারাপারের ব্যাপারে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা