kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

এক পদে ছয় বিজ্ঞপ্তি

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক পদে ছয় বিজ্ঞপ্তি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাঁর ছোট বোনকে গোপনে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কাঠগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে গত ২১ অক্টোবর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন স্থানীয় দুই অভিভাবক। নয়ন প্রামাণিক ও মোরশেদ আলম নামের দুই অভিভাবক লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ও ডিজির প্রতিনিধি না পাঠানোর অনুরোধ জানান।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলীর ছোট বোন রওশন আরাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে কৌশলগত কারণে গত চার বছরে ছয়বার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আর প্রতিবার নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বিগত সময়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদনকারীরা কেন্দ্রে গেলেও পরীক্ষা না নিয়ে তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়। এমনকি বিদ্যালয়ের চারজন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক থাকলেও তাঁদের বাদ দিয়ে ছোট বোনকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী। এরই মধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে লাইব্রেরিয়ান পদে প্রধান শিক্ষকের শ্যালক রফিকুল ইসলাম ও অফিস সহকারী পদে ভাতিজা আব্দুল মালেককে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। আর নতুন এই দুজনসহ ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকটাত্মীয়ের সংখ্যা ৯ জন, যা বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষক-কর্মচারীর প্রায় অর্ধেক।

জানা গেছে, ১৯২৭ সালে উপজেলার কাঠগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ছিলেন আব্দুল করিম। তাঁর সময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন ইউনুছ আলী প্রামাণিক। আব্দুল করিম অবসরে যাওয়ার পরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব বুঝে দেন তাঁর ভগ্নিপতি ইউনুস আলীকে। করিম মাস্টার প্রধান শিক্ষক থাকার সময়েই নিকটাত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ দিতে থাকেন। তখন বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হন বর্তমান প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই জাকারিয়া হোসেন। তিনি বেসরকারি এমপিওভুক্ত ধর্মপুর কলেজের প্রভাষক। করিম মাস্টারের সময়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রথমে নিয়োগ দেওয়া হয় বর্তমান প্রধান শিক্ষকের ছোট বোন রওশন আরাকে।

করিম মাস্টার প্রধান শিক্ষক ও জাকারিয়া হোসেন সভাপতি থাকাকালে এরপর একে একে নিয়োগ পান বর্তমান প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেন, শ্যালকের বউ নুরুন্নাহার বেগম, ভাতিজি নাসরিন আক্তার, বোনের দেবর মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। এরপর আব্দুল করিম প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসরে গেলে ইউনুস আলী প্রামাণিক প্রধান শিক্ষক হন। এরপর সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে যায়। পরে সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রহমানকে নামমাত্র সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাগজে-কলমে পদায়ন দেখান। তিনি ২০১৪ সালে অবসরে যাওয়ার পর থেকেই উক্ত পদ শূন্য রয়েছে। তখন থেকেই বর্তমান প্রধান শিক্ষক তাঁর বোন সহকারী শিক্ষক রওশন আরাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করে আসছেন। এদিকে পদ শূন্য না থাকলেও সাড়ে চার লাখ টাকায় শহিদুল ইসলাম নামের একজনকে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু পদ শূন্য না থাকায় গত পাঁচ বছরেও তাঁর বেতন হয়নি।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী বলেন, ‘নিয়োগের বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়ের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। তবে আমার বোনকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তদন্ত হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, ‘নিয়োগের বিষয়ে ডিজির প্রতিনিধি না পাঠানোর জন্য একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রংপুরের উপপরিচালক (মাধ্যমিক) আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এসংক্রান্ত একটি অভিযোগ দাখিল হয়েছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা