kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

চা-পানের নামে বখরা মাসে ২৫ লাখ টাকা

গণেশ পাল, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চা-পানের নামে বখরা মাসে ২৫ লাখ টাকা

১. রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকাগামী পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক। ২. ভাড়া আদায়ের রসিদ। ৩. বিআইডাব্লিউটিসির ফেরির কাউন্টারে ট্রাকচালকদের ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার ছোট-বড় পণ্যবাহী ট্রাক নদী পারাপার হয়। সেখানে বিআইডাব্লিউটিসির ফেরির টিকিট কাউন্টারে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত টিকিট মূল্যের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চা-পান খাওয়ার নামে ট্রাকপ্রতি নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ৪০ থেকে ১৪০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন গড়ে ৮৩ হাজার টাকা হিসেবে মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিআইডাব্লিউটিসির লোকজন। এদিকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথ অচলাবস্থার প্রভাবে বিভিন্ন গাড়ির চাপ বেড়েছে দৌলতদিয়া ঘাটে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সেখানে যাত্রীবাহী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ফেরি পারের অপেক্ষায় দিনের পর দিন আটকে থাকছে।

গত শুক্র ও শনিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরোপয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ক্যানেলঘাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তার একপাশে ঢাকাগামী বিভিন্ন পণ্যবোঝাই ট্রাকের সারি। অন্যদিকে ফেরিঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর থানার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় দৌলতদিয়া ঘাটগামী অপচনশীল পণ্যবোঝাই কয়েক শ ট্রাক আটকে রেখেছে ট্রফিক পুলিশ। এতে গোয়ালন্দ মোড়-কুষ্টিয়া সড়কের রাজবাড়ী সদর থানার কল্যাণপুর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তায় ট্রাকের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে আছে।

এদিকে বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথ অচলাবস্থার প্রভাবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বিভিন্ন গাড়ির চাপ বেড়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সেখানে যাত্রীবাহী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ফেরির টিকিট সিরিয়ালে আটকে পড়ে থাকছে। তবে দৌলতদিয়া ঘাটে বিআইডাব্লিউটিসির ফেরির টিকিট কাউন্টার ঘিরে গড়ে ওঠা ট্রাক দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এখন আর আগের মতো নেই। গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযানের মুখে দৌলতদিয়া ঘাটে দালালচক্রের লোকজন অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, ৯ অক্টোবর থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১৬ দিনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা থেকে ৩৮ জন ট্রাকের দালালকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পার হতে আসা ঢাকাগামী বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা জানান, বর্তমান এই ঘাটে আগের মতো আর দালাল ধরতে হচ্ছে না। নিজেরা সরাসরি বিআইডাব্লিউটিসির কাউন্টারে গিয়ে ফেরির টিকিট কিনতে পারছেন। তবে কাউন্টারে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফেরির টিকিট মূল্যের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বিআইডাব্লিউটিসির লোকজন।

দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালের ট্রাফিকমোড় এলাকায় অবস্থিত বিআইডাব্লিউটিসির টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্টারের সামনে বিভিন্ন ট্রাকের চালক ও তাঁদের সহকারীদের ভিড়। এ সময় উপস্থিত চালকদের অনেকেই জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি পারাপারে পাঁচ টনের একটি ট্রাকের টিকিটমূল্য এক হাজার ৬০ টাকা ও ছোট ট্রাকের ৭৪০ টাকা। অথচ বিআইডাব্লিউটিসির ওই কাউন্টার থেকে বড় ট্রাকপ্রতি অতিরিক্ত ৪০ টাকা ও ছোট ট্রাকপ্রতি অতিরিক্ত ১৪০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আর অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে দেওয়া হচ্ছে না টিকিট। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে তাঁদের।

এ সময় ট্রাকচালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্টারে ফেরির টিকিট বিক্রির কাজে কর্মরত বিআইডাব্লিউটিসির কর্মচারী মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘চা-পান খাওয়ার জন্য সামান্য কয়েক টাকা আমরা বেশি নিচ্ছি।’

এদিকে বিআইডাব্লিউটিসির দেওয়া তথ্য মতে, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন গাড়ির পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০টি বড় ট্রাক ও ২৫০টি ছোট ট্রাক ফেরি পার হয়। সেই হিসাবে পণ্যবাহী ছোট-বড় ট্রাকের ফেরি ভাড়ার টিকিট বিক্রি বাবদ প্রতিদিন গড়ে ৮৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। ফলে সেখানে প্রতি মাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ২৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিআইডাব্লিউটিসির লোকজন।

এ ব্যাপারে বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আকার ও ওজনের ওপর প্রতিটি ট্রাকের ফেরির টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত এক টাকাও আদায় করার কথা নয়। এর পরেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা