kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ভরা খাল, নামছে না জল

বরিশালের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি,বিপাকে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। বিভাগীয় শহর বরিশালের বাসিন্দা। থাকেন শহরের পশ্চিম প্রান্তে, নবগ্রাম রোডে। কাগজে সড়কটি মেজর এম এ জলিল নামে পরিচিত। একসময় খাল ছিল, উন্নয়নের ছোঁয়ায় তা নালা (ড্রেন) করা হয়েছে। স্বল্প বৃষ্টিতে সড়ক খালে পরিণত হয়। আর বেশি বৃষ্টি সড়ককে নদীতে পরিণত করে। নালার শেষ প্রান্ত জেল খাল হয়ে কীর্তনখোলায় পড়েছে। খাল আর নদীতে এখন থইথই পানি। তাই সড়কের জল নামছে না। সেই জলেই হাবুডুবু খাচ্ছে নগরবাসী।

ওই সড়কের পাশেই খোকনের মুদির দোকান। সড়ক গড়িয়ে ওয়ার্কওয়ে উপচে পানি ঢুকেছে তাঁর দোকানে। দোকানের জমা পানি বের করতে একনাগাড়ে সেচে চলেছেন খোকন। কিন্তু যে সড়কে ওই পানি ফেলা হচ্ছে, সেটাই টইটম্বুর। ফলে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে যথাস্থানে। এর পরে আরো বৃষ্টি হলে সমস্যা যে বাড়বে, সেই আশঙ্কা করছেন দোকানি। শুধু খোকন একা নন, তাঁর মতো নবগ্রাম রোডের দুই পাশের ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকেছে। পানি থেকে মালামাল রক্ষার জন্য দোকানের সামনে মাটির বাঁধ দিয়ে পানি সেচে মালামাল রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বরিশাল শহরের সদর রোড, যা বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সড়ক নামে পরিচিত। সেই সড়কেও হাঁটুপানি। বিবিরপুকুর আর সদর রোডের পানি সমানে সমান। নতুন কেউ দেখলে বুঝতে পারবে না, কোনটি পুকুর আর কোনটি রাস্তা। সদর রোড ধরে নদীবন্দরের দিকে এগোলে ফজলুল হক সড়ক। ওই সড়কের শেষ দিকে নদীবন্দর। মাঝ বরাবর আদালত, সিটি করপোরেশন, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ আর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। সেই সড়কটিতেও হাঁটুপানি। ভরদুপুরে কোমর সমান পানি উঠেছিল কীর্তনখোলার পাশের পলাশপুর বস্তি এলাকায়। শহরের ভেতর-বাহির আর চারদিকে শুধু থইথই পানি।

বরিশাল আবহাওয়া দপ্তরে জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মাহফুজুর রহমান জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিনভর বৃষ্টিপাতের একই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

শহরের নিম্নাঞ্চল পলাশপুর, আমানতগঞ্জ, রুপাতলী, কলেজ রোড, বটতলা, পলাশপুর ও বৌবাজার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ওই সব এলাকার জমা পানি মূলত পাশে থাকা খাল দিয়ে কীর্তনখোলায় গিয়ে পড়ে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে ওই সব খালও উপচে উঠেছে। তবে বাসিন্দারা বলছে, বৃষ্টি থেমে গেলে অসুবিধা হবে না। কিন্তু চলতে থাকলে সমস্যা বাড়তে পারে। টানা বৃষ্টির কারণে দিনমজুর এবং স্বল্প আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে। অন্যরা পানিবন্দি হয়ে ঘরেই অবস্থান করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা