kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ভোটের আগে ধর্ষণ মামলা

আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী ছাত্রলীগ নেতা, মামলা করেছেন মেয়রের ভাগ্নি

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটের আগে ধর্ষণ মামলা

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রিবন আহাম্মেদ বাপ্পী। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদের সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন পৌর মেয়র মুক্তার আলীর সম্পর্কিত বোনের মেয়ে। মুক্তার আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। একে স্থানীয়রা নির্বাচনী মামলা হিসেবে মনে করছে।

স্থানীয়রা জানায়, মেয়রের ভাগ্নি রাজশাহী থেকে আসা একটি অনলাইন পত্রিকার চারজন সাংবাদিককে সাক্ষী করে বৃহস্পতিবার বাঘা থানায় মামলা করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন মাস আগে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন বাপ্পী। এ সময় তাঁকে সহায়তা করেন তাঁর বন্ধু বিপ্লব। এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা মনে করছে, এ মামলার পেছনে মেয়রের হাত রয়েছে।

রাবিউল হাসান নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মেয়র মুক্তার আলী দুর্নীতি ও করোনা সংকট মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের গায়ে হাত তোলাসহ অশালীন ভাষায় গালমন্দ করার কারণে এবার পৌরবাসী নতুন নেতৃত্ব চায়। এ দিক থেকে প্রয়াত বাবুল হোসেনের সন্তান বাপ্পি পৌরবাসীর মন জয় করতে পেরেছেন।’

ইশা খান লিখেছেন, ‘মেয়রের লোকজন সম্প্রতি বাপ্পির জনপ্রিয়তা দেখে হুমকিধমকি দিয়েছিল।’

ছাত্রলীগ নেতা তানজিম হাসান লিখেছেন, ‘চক্রান্ত করে কোনো লাভ নাই।’

আড়ানী গুড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পিন্টু সরকার বলেন, ‘গত বুধবার মেয়রের ডাকে রাজশাহী থেকে চারজন সাংবাদিক এসেছিলেন তাঁর কার্যালয়ে। তাঁরা সাক্ষী হয়ে পরদিন ছাত্রীকে দিয়ে মামলা করিয়েছেন।’

আড়ানী এরশাদ আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হানি বলেন, ‘বাপ্পির সুনাম নষ্ট করার মানসে মেয়র মাঠে নেমেছেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে এ ধরনের নোংরামি প্রত্যাশা করি না।’

বাপ্পী বলেন, ‘আসন্ন আড়ানী পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছি। আমার পক্ষে দলীয় লোকজন সাড়া দিয়েছে। আর এ বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বর্তমান মেয়র। এ কারণে তিনি ষড়যন্ত্র করে তাঁর সম্পর্কিত বোনের মেয়েকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করিয়েছেন।’

আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুজ্জামান সাহেদ বলেন, ‘ঘটনার তিন মাস পরে ধর্ষণ মামলা দেওয়ার বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক বলে মনে হয়েছে।’

মেয়র মুক্তার আলী বলেন, ‘মেয়েটা আমার ভাগ্নি। তিন-চার মাস আগে সে আমার কাছে বাপ্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু কোনো প্রমাণ না থাকায় আমি বিচার করতে পারিনি।’ তিনি মামলায় সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন।

বাঘা থানার পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা