kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

জমির লোভে মাকে হত্যা

সুবর্ণচরে পাঁচ টুকরা মরদেহ

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নুরজাহান বেগমকে (৫৭) হত্যা ও পাঁচ টুকরা করে ধানক্ষেতে ছড়িয়ে রাখার ১৫ দিন পর রহস্য উদঘাটন করার কথা জানিয়েছে চরজব্বর থানা ও ডিবি পুলিশ। জমির লোভে নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবির ও তাঁর ছয় সহযোগী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নোয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান।

হত্যার ঘটনায় প্রথমে নুরজাহানের ছেলে হুমায়ুন কবিরই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। তবে পুলিশের তদন্তে মাকে হত্যায় হুমায়ুনেরই জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। তাঁর সঙ্গে ছয় সহযোগীও ছিল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চরজব্বর থানায় হুমায়ুনসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করে। এরই মধ্যে হুমায়ুনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, বালিশ, কোদাল এবং নিহতের কাপড় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নুরজাহানের আগের সংসারের ছেলে বেলাল তাঁর মাকে জিম্মায় রেখে এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সুদের ওপর চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ রেখে দেড় বছর আগে বেলাল মারা যান। পরে পাওনাদাররা ওই টাকা পরিশোধ করার জন্য পরের সংসারের সন্তান হুমায়ুনকে চাপ দেন। তখন হুমায়ুনকে ১৩ শতক জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে বলেন তাঁর মা। হুমায়ুন উল্টো তাঁর মায়ের মালিকানাধীন ১৪ শতক ও বেলালের স্ত্রীর মালিকানাধীন ১০ শতক জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে বলেন। এ নিয়ে বিরোধ ছিল। এদিকে নুরজাহান তাঁর ভাই দুলালের কাছে পাওনা ৬২ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ দেন। এ কারণে হুমায়ুনের মামাতো ভাই কালাম ও মামাতো বোনের জামাই সুমনও ক্ষিপ্ত হন। এ ছাড়াও নুরজাহানের প্রতিবেশী ইসমাইল ও হামিদের লোভ ছিল বেলালের জমির প্রতি। তাই তাঁরাও হুমায়ুনকে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।

 

হুমায়ুন জবানবন্দিতে জানান, জমি পাওয়ার লোভে সবাই গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে একটি সেতুর ওপর বসে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। রাতে তাঁরা ঘরের মধ্যে বালিশ চাপা দিয়ে নুরজাহানকে হত্যা করে পাঁচ টুকরা করে পাওনাদারদের ধানক্ষেতে ছড়িয়ে রাখেন।

নুরজাহান বেগম উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত আবদুল বারেকের স্ত্রী। তিনি আট ছেলে ও এক মেয়ের জননী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন, চরজব্বর থানার ওসি শাহেদ উদ্দিনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য