kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

অধিগ্রহণে জমি-ঘুষ

রেলের আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইন প্রকল্প

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অধিগ্রহণে জমি-ঘুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি অধিগ্রহণের আওতায় এনে উচ্চমূল্য পাওয়ার লোভে রেল কর্মকর্তাকে ঘুষ হিসেবে চার শতাংশ জায়গা লিখে দিয়েছিলেন আখাউড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মমিন বাবুল। কিন্তু অধিগ্রহণের পর সরকারি বরাদ্দ আসায় সেই চার শতাংশ জায়গার টাকা তোলার বিষয়ে বেঁকে বসেছেন ওই যুবলীগ নেতা। ফলে প্রাপ্য টাকার দাবি জানিয়ে আদালতে লিখিত আবেদন করেছেন সেই রেল কর্মকর্তা এ বি এম গোলাম মোস্তফা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লালমনিরহাট রেলের সিনিয়র এস্টেট অফিসার এ বি এম গোলাম মোস্তফা ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আসেন। এ সময় উপজেলা যুবলীগ নেতা বাবুলের আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রাম চন্দনসারের ১৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়ছে না বলে জানান। পরে তিনি ফের জানান, তাঁর নামে চার শতাংশ জায়গা লিখে দিলে কারসাজি করে ওই জমি অধিগ্রহণের আওতায় আনা যাবে। উচ্চমূল্য পাওয়ার আশায় রেল কর্মকর্তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান যুবলীগ নেতা। সম্প্রতি অধিগ্রহণের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপরই বেঁকে বসেছেন ওই যুবলীগ নেতা। ওই রেল কর্মকর্তাকে জমি অধিগ্রহণের টাকা দিতে রাজি নন তিনি। এ অবস্থায় রেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মামলাও ঠুকে দিয়েছেন। অভিযোগে যেন তিনি টাকা না তুলতে পারেন—সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ওই রেল কর্মকর্তা জোর করে জমি লিখে নেওয়ার পাশাপাশি ধার হিসেবে তাঁর কাছ থেকে আরো ১৫ লাখ টাকা নিয়েছেন—যা দিতে এখন গড়িমসি করছেন।

অভিযোগকারী যুবলীগ নেতা বাবুল জানান, এ বিষয়ে গত ১৪ অক্টোবর আদালতে মামলা ও ১২ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

অবশ্য ওই যুবলীগ নেতা মামলা ও অভিযোগে পৃথক বক্তব্য লিখেছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে নিজেই দলিল করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া মামলায় দলিলটি জাল বলে উল্লেখ করেন। মামলায় ১৫ লাখ টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ যুক্ত করা হয়।

এদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে মূলত ঘুষ হিসেবেই জমিটি ওই রেল কর্মকর্তাকে লিখে দেন যুবলীগ নেতা বাবুল। এখন ওই কর্মকর্তার নামে টাকা বরাদ্দ হওয়ায় বাদ সেঁধেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে যুবলীগ নেতা আব্দুল মমিন বাবুল বলেন, ‘১৪ শতাংশ জায়গা রেলওয়ের উন্নয়নকাজে নেওয়া হবে না বলে আমাকে জানিয়ে দেন অধিগ্রহণের তদারকিতে আসা রেল কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা। কিন্তু অধিগ্রহণ করানো গেলে লাভবান হওয়া যাবে—সেই চিন্তা থেকে আমি তাঁর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করি। তখন তিনি আমাকে চার শতাংশ জায়গা লিখে দেওয়ার কথা বললে রাজি হয়ে যাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি তো কাজটা হাসিলের জন্য তাঁকে জমি লিখে দিয়েছি। তিনি তো কোনোভাবেই এ জায়গা পাওয়ার অধিকার রাখেন না। মূলত ঘুষ হিসেবেই তিনি এই জায়গা আমার কাছ থেকে নিয়েছেন। এটা আমি সহজে ছেড়ে দিতে পারি না।’ রেল কর্মকর্তা এ বি এম গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি নগদ টাকা দিয়ে আব্দুল মমিনের কাছ থেকে জায়গা কিনেছি। এখন আমার নামে টাকা বরাদ্দ হওয়ার পর তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। টাকা পেতে আমি আদালতে লিখিত আবেদন দিয়েছি।’ অধিগ্রহণের কাজে এসে এভাবে জায়গা কেনা নৈতিকতার মধ্যে পড়ে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, তিনি আইনি প্রক্রিয়া মেনেই জায়গাটি কিনেছেন। এখন আদলতেই বিষয়টির সুরাহা হবে।

মন্তব্য