kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

৩৭ সপ্তাহ পার

কুবি শিক্ষকের যৌন হয়রানির তদন্ত কমিটি

ফরহাদুর রহমান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩৭ সপ্তাহ পার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে এ বছরের জানুয়ারিতে এক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। সে সময় অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়। তবে তিন সপ্তাহ মেয়াদের সেই কমিটি ৩৭ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রেজওয়ান তালুকদার যৌন হয়রানি করেছেন মর্মে গত ১৫ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার ও প্রগ্রাম পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ইংরেজি বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের এক ছাত্রী। অভিযোগে বলা হয়, ছাত্রীকে নানাভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন শিক্ষক। বিভিন্ন সময় বিভাগের কক্ষ ও বাসায় যাওয়ার জন্য বলেছেন ওই শিক্ষক। এ ছাড়া অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হলে ছাত্রীকে সান্ধ্য কোর্স নিয়ে ভাবতে হবে না। এ ছাড়া পরীক্ষার হল থেকে তার ফোন নিয়ে যৌন হয়রানির সব প্রমাণ মুছে দেন শিক্ষক।

তবে এ নিয়ে ১৯ জানুয়ারি কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন রেজওয়ান। তিনি ছাত্রীকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেন। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ আছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি সান্ধ্য কোর্সের সব কার্যক্রম থেকে রেজওয়ানকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলকে। তিন সপ্তাহের ভেতর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও কমিটি গঠনের ৩৭ সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। এখনো প্রতিবেদন জমা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই ছাত্রী।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ‘আমি ঘটনার পর থেকে বারবার রেজিস্ট্রার এবং তদন্ত কমিটিকে নক করেছি। ধীরগতি দেখে পুনরায় লিখিতও দিয়েছি। কিন্তু কেন যে বিচার হচ্ছে না বুঝতে পারছি না। আমি পরিবার এবং সমাজের কাছে অনেক ছোট হয়েছি। কেন মেয়েরা নির্যাতিত হয়েও কারো কাছে মুখ খোলে না তা এখন টের পাচ্ছি।’

একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, যৌন নিপীড়নের এই ঘটনায় প্রশাসন স্পষ্টত গড়িমসি করছে। এখানে এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও এমন ঘটনায় বিচার না হওয়ায় একদিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নিপীড়করা সাহস পেয়ে যাচ্ছে। অনতিবিলম্বে এ ঘটনার বিচারের দাবি জানান তাঁরা।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের আহ্বায়ক কামরুন নাহার বলেন, ‘তদন্তের জন্য এলে তিন সপ্তাহ যথেষ্ট নয়। আমরা বেশ কয়েকবার বসেছি। কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। এরপর আমি শিক্ষা ছুটিতে চলে যাই।’ নিপীড়নবিরোধী সেলের সদস্যসচিব মানতাশা তাবাসসুম বলেন, ‘ঘটনার পর সমাবর্তন, এরপর করোনা। এ কারণে আমাদের দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া করোনার কারণে তদন্ত কমিটির সবাই একসঙ্গে বসতেও পারছি না। আশা করছি আমরা আবার শুরু করতে পারব।’

রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের আহ্বায়ক শিক্ষা ছুটিতে যাওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে দেরি হচ্ছে। আমরা উপাচার্যের নির্দেশ পেলে সেলের নতুন আহ্বায়ক নিয়োগ দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করব।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর মন্তব্য জানতে গত বুধবার দপ্তরে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যস্ত পাওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা