kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বরিশাল বিভাগ

ভাঙন রোধের ২৩ প্রকল্পই ঝুলছে

বরিশাল অফিস   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার নদীভাঙন রোধে গত দুই বছরে ৩৩টি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এর মধ্যে ১০টির কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো বাকি ২৩টির অনুমোদন মেলেনি। কবে নাগাদ তা বাস্তবায়িত হবে, সেটি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এগুলোর মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঁচটি, পাউবোতে সাতটি ও পরিকল্পনা কমিশনে তিনটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।

বরিশাল পাউবো সূত্র জানায়, এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় নদীভাঙন প্রতিরোধ ও পোল্ডার পুনর্নির্মাণ এবং নদীশাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পাউবো থেকে ৩৩টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এর মধ্যে বরিশাল জেলার আটটি স্থানে নদীভাঙন রোধে প্রায় ৮৮৭ কোটি টাকা, পটুয়াখালীর তিনটি নদীভাঙন রোধে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা, ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনপদ রক্ষায় আটটি প্রকল্পের জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা, ঝালকাঠির সুগন্ধা ও কালিজিরা নদীর ভাঙন থেকে নৌবাহিনীর আঞ্চলিক বেইস স্টেশনসহ ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২০০ কোটি টাকা এবং বরগুনার তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪২৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব পাউবো ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন স্তরে দাখিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় তিনটি, পিরোজপুরে একটি, বরগুনায় একটি, ভোলায় পাঁচটি চলমান। বাকি ২৩টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় ও প্রক্রিয়াধীন।

অন্যদিকে প্রমত্তা মেঘনা, মাসকাটা, কালাবদর, ইলিশা, তেঁতুলিয়া, সুুগন্ধা, কীর্তনখোলা, বলেশ্বর, সন্ধ্যা, বিষখালী, কঁচা, আড়িয়াল খাঁ, লতা, পায়রাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে তীরের বাসিন্দারা। নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার, বিলীন হয়েছে বহু বসতঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা।  

মেহেন্দীগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান বলেন, ‘নদীভাঙনের ফলে এরই মধ্যে প্রায় ৫০০ ঘরবাড়ি, শ্রীপুর বাজার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মহিলা মাদরাসা, একটি কওমি মাদরাসা, একটি দাখিল মাদরাসা, হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। এই চিত্র শুধু মেহেন্দীগঞ্জেই নয়, বরিশাল বিভাগের সব জেলা-উপজেলার নদীপারগুলোর একই অবস্থা। নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধ করা জরুরি। না হলে বরিশালের হাজারো পরিবারের ভিটাবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। নিঃস্ব হয়ে পড়বে দক্ষিণের জনপদের হাজার হাজার  মানুষ।’

এ বিষয়ে দক্ষিণাঞ্চলের পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘বরিশাল তথা গোটা দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমস্যা হচ্ছে নদীভাঙন। একেকটি নদীর ভাঙনের ধরন একেক রকম। তবু আমরা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা চিহ্নিত করে ভাঙন প্রতিরোধ ও পোল্ডার নির্মাণে বরিশাল বিভাগে ২৯টি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলমান ও প্রক্রিয়াধীন।’ এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নেওয়া এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা নদীভাঙন ও বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকটা রক্ষা পাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা