kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রতিবছর বাড়ছে ভূমিহীনের সংখ্যা

পীরগাছায় তিস্তায় নদীভাঙন

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৩০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বসতবাড়ি ছিল বাবু মিয়ার। বাড়ির পাশেই প্রায় তিন একর আবাদি জমি ছিল। কিন্তু তিস্তার ভাঙনে সব কিছু হারিয়ে এখন অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে বসতি গড়েছেন তিনি। বাবু মিয়ার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের গাবুড়া গ্রামে। শুধু বাবু মিয়া নন, তাঁর মতো সহস্রাধিক পরিবার গত তিন বছরে তিস্তা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে। ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকারের সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে পীরগাছায়। একসময়ের গৃহস্থ পরিবারগুলো প্রমত্তা তিস্তার করাল গ্রাসে আজ ভূমিহীন। সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করায় এসব পরিবারের সদস্যরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। উপজেলার তিস্তা-তীরবর্তী ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের গাবুড়ার চর, শিবদেব চর, কিশামত ছাওলা, পূর্ব হাগুরিয়া হাশিম, ছাওলা, চরকাশিম, চরতাম্বুলপুর ও চররহমত প্রতিবছর ভাঙনের কবলে পড়ছে। চলতি বছর দক্ষিণ গাবুড়া গ্রামটি নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের কারণে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে এসব গ্রামের শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বসতবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অসংখ্য পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নে তিস্তা-তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা ভাঙনের শিকার হয়ে শেষ সম্বলটুকু নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ভূমিহীন পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা বাজারের পাশে ও মাঝ নদীতে জেগে ওঠা চরে আশ্রয় নেওয়া আ. রহমান, মজিদ আলী, তবারক উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন তাঁরা। এখন দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন তাঁরা।

ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম জানান, কয়েক বছরের ভাঙনের কবলে দুটি ইউনিয়নের শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একাধিকবার বিভিন্ন দপ্তরে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘তিস্তার ভাঙন রোধে ওই এলাকায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা