kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

মাদকের ঘাট আরিচা

ঘাটের প্রায় আড়াই বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন স্পটে বসে আসর

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটকে বলা হয় ‘মাদকের হাট’। ঘাটের প্রায় আড়াই বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্পটে বসে মাদকের আসর। কারবারি ও সেবনকারীরাও সবার পরিচিত। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্রমেই পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

প্রায় তিন বছর আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে মানিকগঞ্জের মাদক কারবারিদের নামের তালিকায় ৪৭ থেকে ৬৫ নম্বর পর্যন্ত ঠিকানা আরিচা ঘাটকেন্দ্রিক। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিতুল, মনির, মহসিন, রনি, মামুন, সাগর, আকাশ, আজাদ, রব, জুয়েল, মিজান, জাহিদ, সজল, লুত্ফর, হারুন, সুধীর প্রমুখ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আরিচা ঘাটের সবচেয়ে আলোচিত স্পট হচ্ছে ‘অলির মার গলি’। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে একই ধারায় এই এলাকার কিছু লোক মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে এই গলির কাঁকন দাস, শান্ত সাহা, সাগর সন্ন্যাসী, পিচ্চি কাজল, পিচ্চি আগুন, ইকরাম মল্লিক ও তাঁর ছেলে হৃদয় মল্লিক, বাহাদুর মল্লিক, গেন্দু মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী লিপি আক্তার, বাবু, পিন্টু, সোহাগ, দীপঙ্কর, আশিক, রাজ, সৌরভ, উত্তম ও প্রদীপ মাদক কারবারে জড়িত। তাঁদের অনেকে একাধিকবার মাদক ও সন্ত্রাসী মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও কারবারে জড়িয়ে পড়েন।

‘অলির মার গলি’ ছাড়াও আরিচা ঘাটের নতুন পাড়া, লঞ্চ অফিসের সামনে, পিডিবির গেট, মণ্ডলবাড়ির মোড়, আজিজের মোড়, বোয়ালী ডাক্তারখানা, আরিচা বাসস্ট্যান্ড, স্পিডবোট ঘাট, পুরনো ট্রাক টার্মিনাল, নিহালপুর মোড়, মিনি লঞ্চ টার্মিনাল, গরুর হাট, সিনেমা হল, পুরাতন পেঁয়াজের আড়ত, বালুর চর ও ইছাক মিয়া পাড়ায় নিয়মিত মাদক বেচাকেনা চলে।

মাদক কারবারি হিসেবে এক নামে সবাই চেনে মনির ড্রাইভারকে। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি হেরোইন, ফেনসিডিল আর বর্তমানে ইয়াবার কারবার করছেন। বয়সের কারণে বাড়িতে বসে থাকলেও তাঁর ব্যবসা চালিয়ে আসছেন স্ত্রী সালমা, ছেলে সোহেল ও ছেলের বউ মুন্নী। তাঁদের সহযোগী আতিক ও রাজু। শিবালয় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা আতিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার করছেন। বিউটি বিড়ি ফ্যাক্টরির কাছে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আমেনার ছেলে মাসুদ, সোহরাবের ছেলে শাহীন, বোয়ালীপাড়ার তছলিম, মোস্তফা, রুস্তম আলী, ছোট বোয়ালী পাড়ার রুবেল, মতিন, নিহালপুরের রহমান, বাদশা, চালকলের পাশে রিয়াদ, নতুন পাড়ার ছোট সেলিম মাদক কারবারে জড়িত। ওষুধের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার কারবার করেন তপু কাজী, মোবাইল মেকার মজনু্, পিডিবি কারখানার পূর্ব পাশের ইউনুছ আলী, কিরণ ও মিম।

আরিচা ঘাটকে মাদকের অভয়ারণ্য বলে মন্তব্য করেন শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান জানু। তিনি বলেন, উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রতিটি সভায় এ নিয়ে বক্তব্য দেন; কিন্তু সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে আশার কথা জানান শিবালয় থানার নতুন ওসি মহম্মদ ফিরোজ কবির। তিনি জানান, আরিচা ঘাটকে মাদকমুক্ত করার সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত তিন মাসে ৩১টি মাদক মামলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে অবস্থার আরো উন্নতি হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা