kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

খুলনার যুবদল নেতা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা

দখল যার নেশা

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দখল যার নেশা

ছিলেন যুবদল নেতা। এখন আওয়ামী লীগ নেতা। আগেও জমি দখল করতেন, এখনো করেন। যুবদল নেতা হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমিতে মার্কেট বানিয়েছিলেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দখল করা জমির পরিমাণ আরো বাড়িয়েছেন। এখন পাউবোর উচ্ছেদ নোটিশকেও থোড়াই কেয়ার করছেন। ওই নোটিশকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে দিব্যি আছেন।

এই ক্ষমতাধর রাজনীতিক হচ্ছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হুমায়ুন কবির বুলু। বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ছিলেন যুবদল ডুমুরিয়া থানা শাখার আহ্বায়ক এবং বিএনপি খুলনা জেলা শাখার প্রকাশনা সম্পাদক। তখন ভরাট হওয়া সলতা নদীর জমি দখল করে মার্কেট তৈরি করেন। ওই সময়ে মাছের ঘের দখল, নদী দখল, খাল দখল করারও অভিযোগ ছিল তাঁর নামে। এ নিয়ে একাধিক পত্র-পত্রিকায় তখন লেখা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে নদী-ভরাটি জমি দখল করে গড়ে তোলা মার্কেটে দোকানের পজিশন বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সেই দখল বজায় রাখেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মার্কেট সম্প্রসারিত হয়। তাঁর আয়ও জমজমাট গতিতে অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে দখল করা জমি নিজের দাবি করে ভূমি অফিসে নামজারির মামলা করেন। অবশ্য তাঁর নামে নামজারি হয়নি; মামলাটি খারিজ হয়েছে।

চলতি বছর সারা দেশে নদী-তীরবর্তী স্থান দখলমুক্ত করতে পাউবো উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। নদী-তীরবর্তী স্থানে অবৈধ স্থাপনা হিসেবে হুমায়ুন কবীর বুলুর মার্কেটটিও তালিকাভুক্ত হয়। সেই হিসেবে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপসহকারী প্রকৌশলী মু. হাসনাতুজ্জামানের স্বাক্ষরে পাউবোর জায়গায় গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত জায়গায় দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগ দখল করছেন। যা আইনের দৃষ্টিতে দণ্ডনীয় অপরাধ। চলতি অর্থবছরে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কার্যক্রম নেওয়া হবে। অতএব নোটিশ জারির সাত দিনের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে আপনার অবৈধ স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে দখলমুক্ত করে নিম্নস্বাক্ষরকারীকে জানাবেন। অন্যথায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’ করোনা মহামারির কারণে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত হয়ে যায়। ফলে চূড়ান্ত নোটিশ দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবীর বুলুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি পাউবোর নোটিশকে ভুয়া বলে আখ্যা দেন। বলেন, ‘আমাকে নোটিশ দেয়নি। ফেব্রুয়ারির চিঠি অক্টোবরে রাস্তায় পেয়েছি। এই ভুয়া চিঠির বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।’

ওই পদে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘চূড়ান্ত নোটিশ সঠিক। এটি ভুয়া চিঠি নয়। করোনার কারণে সব উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রয়েছে। যা দ্রুত শুরু করা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসকের কাছে ওই মার্কেটসহ দুই হাজার ২৯৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট/পুলিশ দিলেই তাঁরা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করবেন। তিনি স্বীকার করেন, ‘ডুমুরিয়ায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সমাজপতিসহ অনেকে পাউবোর জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করেছেন।’ তিনি আরো জানান, হুমায়ুন কবীর বুলু এই মার্কেটের জমি তাঁর নামে রেকর্ড করার জন্য ডুমুরিয়ার সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে মামলা দায়ের করেছিলেন। যা খারিজ হয়ে গেছে। ফলে উচ্ছেদ করায় কোনো আইনগত বাধা নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা