kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পুকুর সেচতে গিয়ে ট্রেনে বিচ্ছিন্ন ৩

দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা মাছ ধরার জন্য শনিবার রাতভর রেললাইনের পাশে পুকুর থেকে মেশিনে পানি নিষ্কাশন করছিলেন

বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নেত্রকোনার বারহাট্টায় ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে দুই সহোদরসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোরে উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের স্বল্প-দশাল গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতরা হচ্ছেন স্বল্প-দশাল গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে মোখলেছ (২৮), আব্দুল হেকিমের দুই ছেলে রিপন (২৪) ও স্বপন (২২)।

স্থানীয়রা জানায়, দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা মাছ ধরার জন্য শনিবার রাতভর রেললাইনের দক্ষিণ পাশে একটি ছোট পুকুর থেকে মেশিনে পানি নিষ্কাশন করছিলেন। ক্লান্ত হয়ে বিশ্রামের জন্য তাঁরা রেললাইনের ওপর এসে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় মোখলেছ ও স্বপনের গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। রিপনের শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর শোকে ভারী হয়ে উঠেছে বারহাট্টার আকাশ। রিপন আর স্বপনের মায়ের কান্না যেন থামছেই না। নিহত দুই সন্তানের মা মালেকা বেগম (৫০) আহাজারি করে বলেন, ‘হাসান-হোসেন (রিপন ও স্বপন) কই রে। আমারে থুইয়া গেলা রে। মা তুমি মরবা না, কেলা দেখব আমরারে। অহন তোরাই ছাইড়্যা গেলে আমারে। কেলা কই আছ, আমার হাসান-হোসেনরে আইন্যা দেও।’

জানা যায়, মালেকা বেগমের স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন।

তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে। জ্যেষ্ঠ ছেলে লিটন বিয়ে করে ঢাকায় থাকেন। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। রিপন ও স্বপন মায়ের দেখাশোনা করতেন। তাঁরা মারা যাওয়ায় এখন মাকে দেখাশোনার আর কেউ রইল না।

রেলওয়ের মোহনগঞ্জ স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী পরিদর্শক সমর বড়ুয়া দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা