kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভোট না দিলে ভাতা বাতিল

মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচন
আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদ রানা তাঁর সভায় যেতে সরকারি ভাতাভোগীদের বাধ্য করেছেন
কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সাড়া পাননি স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হাদী চৌধুরী

বদলগাছী-মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোট না দিলে ভাতা বাতিল

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাঁর সভায় যেতে সরকারি ভাতাভোগীদের যেতে বাধ্য করেছেন। এ ছাড়া নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দিচ্ছেন। তা না হলে  সুবিধাভোগীদের ভাতার কার্ড বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার বিকেলে গোবরচাপাহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদ রানার এ নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মথুরাপুর ইউপির দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী সভায় উপস্থিত থাকার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হাদী চৌধুরী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্র ও ভাতাভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, মাতৃকালীন, ভিজিডি ও ১০ টাকা কেজি দরে চালপ্রাপ্তির সুবিধাভোগী রয়েছে। গ্রাম পুলিশ সদস্যরা এসব সুবিধাভোগীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতার বই নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদ রানার শনিবার বিকেলে গোবরচাপাহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত থাকতে নিমন্ত্রণ জানান। গ্রাম পুলিশ সদস্য অজিৎ কুমার বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা সেটি পালন করেছি।’

শনিবার বিকেলে গোবরচাপাহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মাসুদ রানার নির্বাচনী সভা চলছে। সভায় নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সভায় বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিল। অনেক বয়স্ক নারী-পুরুষের সঙ্গে সুিবধাভোগীর ভাতার বই ছিল। ভাতার বই সঙ্গে আনার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, বই সঙ্গে আনতে বলেছিল। তাই ভাতার বই এনেছেন।

উল্লেখ্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হাদী চৌধুরী টিপু এর আগে তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাননি।

বদলগাছী নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান পদে আগামী ২০ অক্টোবর ভোট। গত ৪ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। রবিবার রাত ১২টার পর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকবে। তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হাদী চৌধুরী বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। সুবিধাভোগীরা যদি নৌকায় ভোট না দেয় আর নির্বাচনী সভায় উপস্থিত না হয় তাহলে ভাতা বন্ধ ও ভাতার কার্ড কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আমি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এতে কোনো সাড়া পাইনি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছি।’

দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমাকে দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের  নেতারা যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, আমি ঠিক সেভাবেই কাজ করেছি।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘ভাতাভোগীরা আমার ভোটার। তাদের কাছে আমার ভোট চাওয়ার অধিকার আছে।’

বদলগাছী উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা শফি উদ্দীন শেখ বলেন, ‘আমি অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা খাতুন বলেন, ‘আমার কাছে কোনো প্রার্থী অভিযোগ দেননি। নির্বাচন কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘন না হয় আমি তা লক্ষ রাখছি।’

মন্তব্য