kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

পুড়ল ঘর, মামলা লুটপাটের!

নান্দাইল

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মোছা. ফিরোজা খাতুন (৬৫)। গত মাসে এই বিধবার পরিত্যক্ত লাকড়ির ঘরে আগুন লাগে। বিষয়টি জেনে অনেকেই আগুন নেভাতে ছুটে যায়। কিন্তু তাদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি থানায় শ্লীলতাহানির মামলা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে তিনজনকে। অথচ সাক্ষী, আসামি—কেউই বিষয়টি জানেন না বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইলের সিংরুইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মহাবৈ গ্রামের।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে বিধবা ফিরোজার পরিত্যক্ত লাকড়ির ঘরে আগুন লাগে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। এরই মধ্যে পাশের মসজিদের মাইকে আগুন লাগার বিষয়টি প্রচার করা হয়। তা শুনে অনেকেই আগুন নেভাতে ছুটে যায়। এ ঘটনায় আইনউদ্দিন, শানু মিয়াকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ফিরোজা। এর ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তও করে। ফিরোজা তখন মীমাংসা করবেন বলে জানালে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। কিন্তু গত ৪ অক্টোবর আইনউদ্দিন, শানু মিয়াসহ সিংরুইল ইউপির সাবেক সদস্য মো. জাকির হোসেন ওরফে মবিন মিয়া, কিরণ মিয়া ও আলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় মারধর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে লিখিত অভিযোগ করেন। কোনো তদন্ত ছাড়াই পুলিশ তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। অথচ ঘটনার দিন পাঁচজনই আগুন নেভাতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে মামলায় ফিরোজার তিন প্রতিবেশীকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আবদুল মালেক ও জামেনা খাতুন দাবি করেন, সাক্ষী করার বিষয়টি অনেক পরে জেনেছেন। তা ছাড়া সেদিন কোনো মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে আসামি সাবেক ইউপি সদস্য মবিন মিয়া বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।’ তবে তদন্ত ছাড়াই মামলা রেকর্ডের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম।

মন্তব্য