kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

হবিগঞ্জ

মৃত ব্যক্তিকে বাঁচাতে দুই দিন ধরে ঝাড়ফুঁক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হবিগঞ্জে সাপে কাটা ব্যক্তিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পরও তাঁকে সমাহিত না করে ওঝা এনে ঝাড়ফুঁকের আয়োজন করা হয়। টানা দুই দিন ঝাড়ফুঁক শেষে ওঝারা ব্যর্থ হলে গতকাল লাশ দাফন করা হয়। সাপে কাটায় মৃত আব্দুস সালাম (৫২) সদর উপজেলার ছোট বহুলা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে ছোট বহুলা উত্তর-পূর্ব হাওরে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান আব্দুস সালাম। সেখানে তাঁর পায়ে বিষাক্ত সাপ দংশন করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই দিন রাত ৮টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের লোকজন মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এলে স্থানীয় ওঝারা মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক করে সুস্থ করবে বলে ঘোষণা দেন। এতে নিহতের পরিবারের লোকজনের মাঝে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। পরে ওঝারা বাড়ির পাশে একটি শীতল পাটিতে মরদেহ রেখে ত্রিপল টাঙিয়ে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে কৌশলে সটকে পড়ে ওঝার দল। অবশেষে গতকাল সকালে আব্দুস সালামের দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করা হবে—এ কথা শুনে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ ছোট বহুলা গ্রামে সমবেত হয়।

ছোট বহুলা গ্রামের আইনজীবী সহকারী কুতুব উদ্দিন রুবেল বলেন, ওঝারা মৃতদেহের সামনে তন্ত্রমন্ত্র পড়েন, বীণ বাজান ও অশ্লীল গান-বাজনা করেন। কিন্তু দুই দিনেও তাঁদের কেরামতি কাজ না করায় অবশেষে বুধবার সকালে আব্দুস সালামের লাশ দাফন করা হয়। এর এক সপ্তাহ আগে তাঁর বড় ভাই আব্দুল হামিদের মৃত্যু হয়। এক সপ্তাহে ওই পরিবারে দুজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মাসুক আলী বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তাঁর জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা