kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সিআইডি কর্তার গ্যাঁড়াকল

ব্যবসায়ীকে নির্যাতন ও টাকা আদায়ের অভিযোগ
তদন্ত থেকে প্রত্যাহার কুষ্টিয়ার এসআই

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিআইডি কর্তার গ্যাঁড়াকল

কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক (এসআই) সুজিত কুমারকে এই অভিযোগে একটি মামলার তদন্ত থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শহরতলি জয়নাবাদের ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী ভুক্তভোগী মোক্তার হোসেন জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর চারজন লোক দোকানে এসে সিআইডি পরিচয় দিয়ে তাঁর খোঁজ করেন। এরপর না পেয়ে দোকানের ভিজিটিং কার্ডে একটি মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে যান। নম্বরটি এসআই সুজিতের জানিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য বলেন। রাতে দোকানে ফিরে ওই নম্বরে কল দিয়ে কথা বলেন। পরদিন তাঁকে সিআইডি কার্যালয়ে যেতে বলা হয়। এরপর বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় সিআইডির দপ্তরে যান। সেখানে যাওয়ার পর এসআই সুজিত পাশে একটি চেয়ারে বসতে দেন। ভাইকেও সেখানে বসতে বলেন। এরপর হঠাৎ এসআই তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে দিয়ে জমি জালিয়াতির ঘটনায় তাঁকে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন।

ব্যবসায়ী মোক্তার অভিযোগ করেন, তিনি এসবের কিছুই জানেন না বললে এসআই লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর শুরু করেন। এভাবে দুই দফায় দুই ঘণ্টা তাঁকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর তিনিসহ তাঁর ভাইকে মামলা থেকে বাঁচতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। না হলে আসামি করে চালান করে দেওয়ার কথা বলেন এসআই। পরে বড় ভাই ইবাদতকে টাকা জোগাড় করে আনার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর নানা জায়গায় ধারদেনা, স্ত্রী ও ভাবিদের গয়না বন্ধক রেখে তাৎক্ষণিক এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করা হয়। বাকি ২০ হাজার টাকা বিকাশ থেকে তুলে এসআইর হাতে দিলে তিনি মোট এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ড্রয়ারে রাখেন। টাকা পাওয়ার পর দুটি আলাদা কাগজে দুই ভাইয়ের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একটি কাগজে কিছু লেখা ছিল, আরেকটি সাদা কাগজ ছিল। সাদা কাগজে তাঁর একার ও অন্যটিতে ভাইয়ের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত রবিবার আবার তাঁর ফোনে কল দেন এসআই। কল দিয়ে বাকি টাকার জন্য চাপ দেন। এরপর বাড়ির পাঁচটি গরু বেচে বাকি টাকা দেবেন বলে জানান।

মোক্তার বলেন, ‘জমি জালিয়াতির বিষয়টি আমি গণমাধ্যমে জেনেছি। কিন্তু আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। এখন আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা সঠিক তদন্ত ও দোষীর শাস্তি চাই।’ তিনি এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে সিআইডির এসআই সুজিত বলেন, ‘কিছু অভিযোগের কারণে তাদের আসতে বলি। অফিসে আসার পর তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। টাকা-পয়সা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।’

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘গতকাল বুধবার মোক্তার হোসেন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেটি আমি সিআইডির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা