kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

সাটুরিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিস

সেরেস্তা খরচের নামে বাড়তি টাকা আদায়

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সেরেস্তা খরচের নামে চলছে চাঁদাবাজি। সরকার নির্ধারিত রেজিস্ট্রি ফি ৮.৫০ শতাংশ হলেও প্রতি দলিল বাবদ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। পরে এই টাকার বেশির ভাগ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। বাকি অংশ যায় দলিল লেখক সমিতিতে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাটুরিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে তিন হাজার দলিল রেকর্ড করা হয়। সে হিসাবে বছরে ৫০-৭০ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। অথচ স্ট্যাম্প, ইউপি ট্যাক্স, উেস করসহ সরকার নির্ধারিত ফি মাত্র ৮.৫০ শতাংশ। ব্যাংকের মাধ্যমে এই সাড়ে ৮.৫০ শতাংশ টাকা সরকারি হিসাবে জমা পড়ে।

কয়েকজন দলিল লেখকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ফিয়ের বাইরে অফিশিয়াল ঝামেলা মেটানোর নামে যে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়, তাকেই সেরেস্তা খরচ বলা হয়। এই অতিরিক্ত টাকা না দিলে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে ঝামেলা করে অফিস। পার্টিও ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে টাকা দিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, সেরেস্তা খরচের নামে বাড়তি টাকা আদায়ের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী হোসনে আরা ও রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে পার্টির কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। আদায় করা টাকার তিন ভাগের এক ভাগ দেওয়া হয় দলিল লেখক সমিতিকে। বাকি টাকা পদ অনুযায়ী কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে সেরেস্তা খরচ থেকে যে টাকা ভাগ পাওয়া যায় তা নিয়ে নেতৃস্থানীয় দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে নয়ছয়ের অভিযোগ আনেন কয়েকজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক এক দলিল লেখক জানান, সমিতির নামে টাকা জমা হলেও তার কোনো হিসাব দেওয়া হয় না। সমিতির ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও টাকা রাখা হয় না। হাতে গোনা দু-একজন ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। অফিসের সঙ্গে দলিল লেখক সমিতির নেতাদের যোগসাজশ থাকার কারণেই অবৈধ সেরেস্তা খরচের টাকা আদায় বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ বদনাম হচ্ছে সাধারণ দলিল লেখকদের।

এ ব্যাপারে অফিস সহকারী হোসনে আরা ও রফিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বাড়তি টাকা আদায়ের কথা অস্বীকার করেন। উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার আজহার আলী খান বলেন, নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো টাকা আদায় করার সুযোগ নেই। তাঁর অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ কেউ করেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা