kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এক শিক্ষকের ২৮ দুর্নীতি!

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক শিক্ষকের ২৮ দুর্নীতি!

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পরিচালক (হিসাব) পদ থেকে ড. মো. শাহাদৎ হোসেন খানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। পরিচালক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতেন।

অব্যাহতিপত্রে কোনো কারণ লেখা না থাকলেও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্নীতির অভিযোগে শাহাদেক তাঁর অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয়। এতে শাহাদতের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। উপাচার্য আবুল কাশেম ১৯ সেপ্টেম্বর শিক্ষক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনার পর  ২৩ সেপ্টেম্বর শাহাদেক অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।

শিক্ষক পরিষদের স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, শাহাদৎ শহীদ তাজউদ্দীন হলের সুপার হিসেবে ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (এক বছর আট মাস) দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ২৫ লাখ ২৪ হাজার ১৮৫ টাকা ভাউচার ও ক্যাশ বহিবিহীন ব্যয় করেন, যাতে অভ্যন্তরীণ অডিট আপত্তি রয়েছে। ছাত্র পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বর ওয়ালটন শোরুম থেকে টিএসসির নিচতলার ক্যাফেটেরিয়ার জন্য বেশ কিছু ইলেকট্রিক সামগ্রী কেনেন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৭০০ টাকা মূল্যের একটি ডিপ ফ্রিজের টাকা পরিশোধ করেননি। এ ব্যাপারে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ গত ৯ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ করেছে। ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের দিকে শরীরচর্চা পরিচালক থাকাকালে ৭০ হাজার টাকা তুলে সমন্বয় করেননি। তবে শোনা যাচ্ছে, বর্তমান শরীরচর্চার পরিচালকের মাধ্যমে তা সমন্বয় না করে গত ২৪ জুন নিজে নিজে সমন্বয় করেছেন, যা নিময়বহির্ভূত। এক শিক্ষকের অসুস্থ থাকাকালে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ছাত্রদের দেওয়া এক লাখ ১০ হাজার টাকা ১৩ মাস পর তৎকালীন উপাচার্যের হস্তক্ষেপে পরিশোধ করেন। ২০১৮ সালে ভর্তি পরীক্ষার সময় অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হকের কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা নিলেও তা পরিশোধ করেননি। গত জুলাইয়ে মসজিদের সম্প্রসারণে নিয়ম ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেন। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিতে ১০ লাখ টাকাকে দুই ভাগ করে খরচ করেন। করোনা মহামারির সময় প্রয়োজন না থাকলেও অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার কেনেন। ২০১৭ সালে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় তিনি এক কম্পানি থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেন। ২০১৪ সালে আহত ছাত্র-ছাত্রীদের চিকিৎসা সহায়তার টাকা দীর্ঘদিন আটকে রেখে পরে আংশিক দেন। বাকি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক উপাচার্য ড. আফজাল হোসেনের সই জালের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্রশাসনকে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে অস্থিতিশীল রাখার মতো ১৮টি অভিযোগ তুলে ধরেছে শিক্ষক পরিষদ।

ড. মো. শাহাদৎ হোসেন খান বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরে হাবিপ্রবিতে আছি। এত দিন কোনো অভিযোগ ওঠেনি। যে সংগঠন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, আমি এর সহসভাপতি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ঈর্ষান্বিত হয়ে করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভবিষ্যতে ভিসি হওয়ার জন্য ১০ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কাছে শুনেছি, সেই তালিকায় আমারও নাম রয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শাহাদৎ হোসেন খানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ওই পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা