kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ওজনদার ভারপ্রাপ্ত

অভিযোগের পাহাড় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

আলমগীর চৌধুরী, জয়পুরহাট   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওজনদার ভারপ্রাপ্ত

জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার পরও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে তিনি আদতে পদায়ন, বদলি, বিল তোলাসহ প্রশাসনিক কাজে দুর্নীতি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) এস এম তৌফিকুজ্জামান গত ২০ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য ৪৫ দিনের ছুটি নিয়ে ভারতে যান। তাঁর অনুপস্থিতিতে দাপ্তরিক কাজের স্বার্থে সাইফুল ইসলামকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি অফিস আদেশ দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নার্গিস সাজেদা সুলতানা। একই সঙ্গে জেলা কর্মকর্তা যোগদানের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর ভারপ্রাপ্তের আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে মর্মে জানানো হয়। কিন্তু জেলা কর্মকর্তা ২৪ ফেব্রুয়ারি কাজে যোগ দিলেও সাইফুল ইসলাম সেই থেকে অবৈধভাবে অফিসের প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে সহকারী শিক্ষকদের দুই দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় খঞ্জনপুর পিটিআই মিলনায়তনে, যেখানে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থাকায় বিনা খরচে কর্মশালা হয়। অথচ বিল ভাউচারে ভেন্যু দেখানো হয়েছে জয়পুরহাট পৌর কমিউনিটি সেন্টার। পৌর কমিউনিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়নি। কিন্তু ভুয়া ভাউচারে ভাড়া বাবদ ২০ হাজার টাকা বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। জেলা কর্মকর্তা যোগদানের পর সাইফুল ইসলামের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়। কিন্তু সাইফুল দুই দিনের ওই ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় ভ্যাটসহ এক লাখ ৮৩ হাজার ৪২৫ টাকা খরচ দেখিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি সব বিল তুলে নিয়েছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্তর দায়িত্ব নিয়ে সাইফুল সদ্য চাকরি পাওয়া ৯১ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদায়নের অফিস আদেশ দেন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। খেয়ালখুশিমতো পদায়নের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই আদেশে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পাওয়া ক্ষেতলাল উপজেলার হাটশহর গ্রামের স্বপন কুমারকে আক্কেলপুর উপজেলার জাফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করেন। পরের দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি ভুয়া স্মারকে ওই শিক্ষককে আবার সদর উপজেলার বাকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করেন। সেখানে নিজ উপজেলায় প্রত্যাবর্তনে ১৪ জুন ক্ষেতলালের বারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবসরজনিত শূন্যপদে যোগদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ঘুষ নিয়ে আগের আদেশ বাতিল না করে ১১ জুন শিক্ষক স্বপন কুমারকে যোগদান করা বিদ্যালয়ে স্থায়ী করেন, যে আদেশে কোনো স্মারক নম্বর দেওয়া নেই। একইভাবে দুই বছর আগে যোগদান করা পাঁচবিবি উপজেলার দোঘড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারজানা বেগমকে আবেদন ছাড়াই মোলান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন।

এ বিষয়ে ফারজানা বেগম বলেন, ‘আমি বদলির আবেদন করিনি। ১০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। দিইনি। তাই আমাকে বাড়ি থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অন্যায়ভাবে বদলি করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা জানান, টাকার বিনিময়ে দোঘড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মেহেদি হাসানকে স্বপদে বহাল রাখতে ফারজানাকে অন্যায়ভাবে বদলি করা হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর সাইফুল ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অন্তত ১৫ জন শিক্ষককে অবৈধ আদেশে বদলি করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘জেলা কর্মকর্তা গত ২৩ আগস্ট একজন শিক্ষকের পিআরএল মঞ্জুর করেন, যার স্মারক নম্বর ৬০৪, যেটি রেজিস্টারে তালিকাভুক্ত আছে। অথচ একই স্মারক ও তারিখে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অন্য এক শিক্ষকের স্নাতক পাসের সনদ সার্ভিস বহিতে অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন সাইফুল।’

অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা কর্মকর্তা যোগ দিলেও তাঁর অসুস্থতার কারণে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে আমি দায়িত্ব পালন করেছি।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম তৌফিকুজ্জামান বলেন, ‘সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা