kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাসাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সাড়ে ১৩ বছর ঘাটতিতেও অসম্পূর্ণ

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাড়ে ১৩ বছর ঘাটতিতেও অসম্পূর্ণ

টাঙ্গাইলের বাসাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন এই ভবনের নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন অবকাঠামো নির্মাণকাজ দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ সেই কাজ গত ১৫ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাসাইলবাসী। একই সঙ্গে তারা ওই ভবনের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছে।

জানা যায়, ২০০৫ সালে বাসাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য ওই বছরের ১০ জানুয়ারি নতুন ভবন নির্মাণ ও হাসপাতালের পুরনো একতলা ভবন সংস্কারে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোনার বাংলা প্রকৌশল সংস্থা। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এদিকে ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। জরুরি রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করেছে বাসাইলের সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

জানা গেছে, নতুন ভবনগুলো ব্যবহারের উপযোগী না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পরিত্যক্ত অবস্থায় থেকে দেয়ালে শেওলা জমেছে, স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাচ্ছে মেঝে। আগাছা জন্মেছে ভবনের ওপরের অংশে। ভবনের নিচে চারপাশে জঙ্গলে ভরে যাচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। ফলে অস্ত্রোপচারের রোগীদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোনার বাংলা প্রকৌশল সংস্থার আইন উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে সোনার বাংলার সঙ্গে যে চুক্তি ছিল, তার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ভবনের কাজ শেষ করে ২০০৬ সালে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মূল দরপত্রে টাইলসের বিষয়টি ছিল না। ফ্লোর ভেঙে টাইলস করার জন্য নতুন রেট না দেওয়ায় সে কাজ আর করা হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফিরোজুর রহমান বলেন, মূল ভবন হয়ে গেছে। কিন্তু বাকি কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। ফলে বাসাইলবাসীকে প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না।

বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, দেড় বছরের কাজ ১৫ বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দের কাজ শেষ না করেই তারা টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা