kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঝিকরগাছা

ভাতার ভাগীদার মেম্বার

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভাতার ভাগীদার মেম্বার

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের (মেম্বার) বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতার টাকার ভাগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কার্ড করার সময় অফিস খরচের কথা বলে এসব টাকার ভাগ নেন তাঁরা।

তথ্য মতে, শংকরপুর ইউনিয়নে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬০ জন প্রতিবন্ধী ও ৮৩ জন বয়স্ক ভাতাভোগীর নাম চূড়ান্ত হয়। এই ভাতাভোগীরা গত ৩১ আগস্ট প্রথম ভাতার টাকা পান। ভাতার কার্ড করতে অফিস খরচের কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদের বেশির ভাগ মেম্বারের বিরুদ্ধে একাধিকবার ভাতাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে টাকা দেওয়ার কথা জানাজানি হলে, ভাতার কার্ড নষ্ট করে দেওয়া হবে বলেও ভাতাভোগীদের হুঁশিয়ারি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উলাকোল গ্রামের প্রতিবন্ধী হুমায়ুন কবীর জানান, মেম্বার মোহাম্মদ আলী অফিস খরচের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। একই গ্রামের মিজার হোসেন জানান, তাঁর মা সোনাভান বিবির বয়স্ক ভাতার টাকা থেকে মেম্বারকে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিদ্রাপোতা গ্রামের আজিজুল ইসলাম জানান, তাঁর প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা থেকে নারী মেম্বার মমতাজ বেগমকে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এ ছাড়া বড় পোদাউলিয়া গ্রামের রিপা খাতুন, রাজবাড়ি গ্রামের শাহরিয়ার ইসলাম ও নায়ড়া গ্রামের রুপালী খাতুন জানান, তাঁদের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা থেকে অফিস খরচ ও ‘মিষ্টি’ খাওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে।

শংকরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ভাতার কার্ড বাবদ আমি কোনো টাকা-পয়সা নিইনি। তবে আমার ওয়ার্ডে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কিছু টাকা নিয়েছিল নেতারা।’ সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য মমতাজ খাতুন বলেন, ‘ব্যাংকে হিসাব খোলার জন্য অল্প কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে।’

শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিছার উদ্দিন বলেন, ভাতার কার্ড করতে কোনো খরচ না লাগে না। 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ এফ এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, কেউ টাকা নেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমান বলেন, মেম্বারের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য