kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘গাইঞ্জা ধান ডুব্বা ভ্যাঙছে মানজা’

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘গাইঞ্জা ধান ডুব্বা ভ্যাঙছে মানজা’

ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর বানিয়াজান চরের গাইঞ্জা ধান ক্ষেত। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘নদী আমাগ্যারে ফকির বানাইলো। বারবার বান এ্যাসা ফসল গিল্যা গ্যাছে। বড় আশ হরছিলাম, গাইঞ্জা ধান গ্যাড়া ক্ষতি পোশামু। কিন্তু অসময়ে নদীর পানি বাড়ছে। গাইঞ্জা ধান ডুব্বা মানজা (কোমর) ভ্যাঙা দিছে। মানজা আর খাড়া কোরব্যার পারমু না। হাতে কাম নাই, ঘরে ভাত নাই। এবার কি হোইরা যে খামু?’—এভাবে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার বানিয়াজান চরের কৃষক বাহের আলী।

চরের কৃষক বাহের আলী শুধু নন, তাঁর মতোই ধুনট, সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি যমুনা নদীর চরাঞ্চলের কমপক্ষে সাড়ে চার হাজার কৃষক স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধানের জমি বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তিন উপজেলায় কমপক্ষে এক হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

বন্যায় আমন চাষ করতে না পারলে এ জেলায় যমুনা চরের চাষির শেষ অবলম্বন স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান। চরের পলি মাটিতে রাসায়নিক সার ছাড়াই কম খরচে উত্পন্ন হয় এই ধান। চিকন, সুস্বাদু এ ধানের দাম বেশি পান বলে চাষও করেন কৃষকরা। কিন্তু সেই ধানক্ষেতও বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার শেষ নেই চরের কৃষকদের।

সরেজমিন সারিয়াকান্দি উপজেলার দুর্গম চর আওলাকান্দী, বোহাইল, কর্নীবাড়ী ঘুরে জানা যায়, দফায় দফায় বন্যায় রোপা আমন নষ্ট হওয়ার পর চরের চাষিরা গাইঞ্জা ধান রোপণ করেছিলেন। কিন্তু সাত দিন ধরে যমুনার পানি বৃদ্ধিতে সব তলিয়ে গেছে।

ধুনটের বানিয়াজান গ্রামের কৃষক মালেক উদ্দিন জানান, পানিতে ডুবে থাকায় বেশির ভাগ গাইঞ্জার আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে। একমুঠো ধানও ঘরে উঠবে না। আওলাকান্দি চরের হামেদ আলী জানান, এবার দফায় দফায় বন্যায় রোপা আমন নষ্ট হয়ে গেছে। শেষ ভরসা গাইঞ্জা ধানের চাষ করা হয়। হঠাৎ আরেক দফা বন্যায় গাইঞ্জা ধানের জমিও ডুবে গেছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে ধান আর হবে না।

বোহাইল চরের আব্দুল কাদের জানান, তাঁরও তিন বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি কমতে দেরি হলে নতুন করে গাইঞ্জা ধান লাগানোর সময়ও থাকবে না। আর সময় পাওয়া গেলেও চারা জোগাড়ে সংকট হবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, বন্যায় ফসল নষ্ট হলেও পানি কমায় শেষ সময়ে ফের ধান লাগাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দুলাল হোসেন বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাইঞ্জা ধান লাগানোর সময় রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে পানি কমে গেলে কৃষকরা ফের ধান চাষ করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, জেলার সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চেয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনার চর বেশি। চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে ৯৬৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে ৪০০ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে।

বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘উজানে ও স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ভাটিতে পানি কম থাকায় দুই-এক দিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা