kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মাটির ঘরে শিকলবন্দি

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাটির ঘরে শিকলবন্দি

নিপেন চন্দ্র পাল

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের ভাণ্ডারা গ্রামে নিপেন চন্দ্র পাল নামের এক মানসিক রোগীকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্দি করে রেখেছে পরিবার। একসময় চিকিৎসা করতে পারলেও বর্তমানে অর্থাভাবে নিপেনকে মাটির অন্ধকার ঘরে পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়েছে।

উপজেলার ভাণ্ডারা গ্রামের প্রয়াত নরেশ চন্দ্র পালের দ্বিতীয় সন্তান নিপেন চন্দ্র পাল (৪২)। ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছিলেন তিনি। স্কুলে পড়ার সময় ১২ বছর বয়সে হঠাৎ করেই নিপেনের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। একাধিকবার নিপেনের চিকিৎসাও করিয়েছিল পরিবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারেনি। ভালো হতে পারে ভেবে ১৮ বছর আগে বিয়েও দেওয়া হয়। রূপালী (৭) নামের একটি মেয়েও আছে তাঁর। কিন্তু বাইরে ছেড়ে দিলে মানুষকে মারধর, গালাগালসহ নানা ধরনের অত্যাচার করার কারণে পাঁচ বছর ধরে নিপেনের পায়ে শিকল দিয়ে রাখছে পরিবার।

নিপেনের বড় ভাই নিতাই চন্দ্র পাল বলেন, ‘দিন দিন নিপেনের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অত্যাচার করে দেখে বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পরিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে।’

নিপেনের স্ত্রী শিখা রানী পাল বলেন, ‘আগে পাগলামি কম থাকলেও দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থের অভাবে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারছি না।’ কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু বলেন, নিপেনের বিষয়টি জানলেও কেউ সহযোগিতার জন্য লিখিতভাবে জানায়নি। তবুও তিনি কিছু করার চেষ্টা করবেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে নিপেনের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও তাঁর পরিবারকে সহায়তার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা