kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অনলাইন ক্লাস বন্ধ এক মাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনলাইন ক্লাস বন্ধ এক মাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অনলাইন ক্লাস গত এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। উপাচার্য না থাকায় এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।

গত ২১ আগস্ট থেকে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদ খালি। এক মাস পার হলেও এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রধান দুই কর্তাব্যক্তি না থাকায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। একই সঙ্গে স্থবিরতা ছড়িয়ে পড়েছে একাডেমিক কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়নকাজে। আটকে আছে চার শ ফাইল। বন্ধ হওয়ার পথে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গত ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান মাসের বেতন-ভাতার ফাইলে স্বাক্ষর করে যান সাবেক উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ। তবে এ সময় বাদ পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা, ৯৪ জন আনসার এবং ৮০ জন চুক্তিভিত্তিক কাজ করা কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ফাইল। ফলে আটকে আছে তাঁদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেতন। বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাঁরা।

এদিকে শিক্ষক-কর্মকর্তারা আগস্টের বেতন পেলেও সেপ্টেম্বরের বেতন পাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। চলতি মাসে পদ দুটিতে নিয়োগ না দিলে কাউকেই বেতন-ভাতা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানায় রেজিস্ট্রার অফিস। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, ‘উপ-উপাচার্যের আর্থিক বিষয়ে এখতিয়ার নাই। এ জন্য এ মাসে উপাচার্য নিয়োগ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবারই বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে।’

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শীর্ষ পদ শূন্য থাকায় থমকে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পসহ সব উন্নয়নমূলক কাজ। বিল না পাওয়ায় কাজ করতে চাচ্ছেন না ঠিকাদাররা। কাজ শুরু করা যাচ্ছে না নতুন প্রকল্পগুলোতেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুল বলেন, ‘মেগা প্রকল্পসহ অন্য সব উন্নয়নমূলক কাজ এখন স্থবির হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।’

করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম সচল রেখেছিল বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা থেমে গেছে। তদারকি না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় সব বিভাগের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া আটকে আছে বিভিন্ন বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ, পদোন্নতি, ফল প্রকাশ ও ছুটিসংক্রান্ত নানা বিষয়।

অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. আব্দুল মুঈদ বলেন, ‘দ্রুত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ না দিলে একটা অগোছালো সমস্যার সৃষ্টি হবে এবং স্বাভাবিক শৃঙ্খলা নষ্ট হবে। যা পরে কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা