kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

হাতাহাতির নেপথ্যে দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাতাহাতির নেপথ্যে দুর্নীতি

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির নেপথ্যে দুর্নীতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। একাংশের দাবি, দুর্নীতির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ওই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজশাহীর ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ওষুধপত্র, যন্ত্রপাতি, গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা ও আসবাবপত্র (এমএসআর সামগ্রী) কেনাকাটা করতে ৮০ লাখ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা করে বরাদ্দ আসে। কিন্তু এই টাকার কেনাকাটা না করে বেশির ভাগ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে লুটপাট করেন।

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমএসআর সরবরাহ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেছা বেগমের স্বামী বাদল রহমান। অভিযোগ উঠেছে, বানেছার সঙ্গে আঁতাত করে এখানে একেবারে সামান্য পরিমাণ এমএসআর কিনে বেশির ভাগ টাকা লোপাট করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ। এই টাকার ভাগ-বাটোয়াারা নিয়ে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আসফাক আলী ও অর্থোপেডিক সার্জন আব্দুল্লাহর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ। তবে আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখানোয় ওই দুই চিকিৎসক মিলে তাঁকে লাঞ্ছিত করেছেন। এ নিয়ে গত বুধবার কালের কণ্ঠে ‘অনুপস্থিত দেখানোয় কর্তাকে লাঞ্ছিত করলেন দুই ডাক্তার’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে আসফাক আলী অভিযোগ করেন, এমএসআর কেনাকাটার জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে ৯০ লাখ টাকা। এই টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকার মালামালও কেনা হয়নি। কিন্তু ক্রয় কমিটির সদস্য হওয়ায় আসফাকসহ অন্যদের কাছ থেকে মালামাল কেনা হয়েছে বলে সই নিতে অব্যাহত চাপ প্রয়োগ করেন আসাদুজ্জামান। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানানোয় আসাদুজ্জামান অভিযোগ তোলেন তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

তবে এমএসআর কেনাকাটায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন আসাদুজ্জামান আসাদ।

তিনি বলেন, ‘ওই দুই চিকিৎসক অনিয়মিতভাবে হাসপাতালে আসেন। এ নিয়ে তাঁদের হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখানোয় তাঁরা আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ রটাচ্ছেন।’

তবে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, দুর্গাপুরের পাশাপাশি পবা, বাগমারা, পুঠিয়া, চারঘাট, বাঘা, তানোর, গোদাগাড়ী ও মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করছে। বরাদ্দ অনুযায়ী এমএসআর সামগ্রী না কিনে সেই টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া হয়েছে। এই টাকার একটি অংশ জেলা সিভিল সার্জনের দপ্তরেও গেছে।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমএসআর কেনাকাটা সঠিকভাবে কেনা হয়েছে কি না সেটি তদারকি করে দেখা হচ্ছে বলে দাবি করেন জেলা সিভিল সার্জন এনামুল হক।

তিনি বলেন, ‘এমএসআর কেনাকাটায় একেকটি উপজেলায় একেকভাবে বরাদ্দ এসেছে। সেটি ঠিকমতো খরচ করা হয়েছে কি না আমরা তদারকি করছি। কোনো ধরনের অনিয়মের খবর আপাতত আমার কাছে নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা