kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মোংলা ও রামপাল

১৬ ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

মোংলা ও রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৬ ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে সরকারের কড়া নির্দেশনা থাকলেও বাগেরহাটের মোংলা ও রামপালে বন্ধ হচ্ছে না এ কাজ। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ-প্রতিবেশ। ওই দুই উপজেলায় বালু উত্তোলন বন্ধে মাঠ প্রশাসনের জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ। এ সুযোগে বালু উত্তোলনকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।    

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোংলা ও রামপালের ১৬টি ইউনিয়নে অন্তত শতাধিক ছোট ড্রেজার দিয়ে এক শ্রেণির লোক সরকারি নদী-খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। ওই বালু অল্প দামে কিনে মানুষ নিচু জমি, পুকুর, পুরনো বদ্ধ জলাশয়, কাঁচা রাস্তা ভরাট করছে। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ যোগাযোগব্যবস্থা।

রামপালের দাউদখালী নদী, যৌখালী নদী ও সরকারি খালে ড্রেজার বসিয়ে মাসের পর মাস বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ওই বালু বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সরবরাহ করে এক শ্রেণির লোক লাভবান হচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ-প্রতিবেশ হুমকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। মোংলা ও রামপালের কোথাও বালুমহাল নেই। অথচ যেখানে সেখানে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় মোংলা-ঘষিয়াখালি নৌ চ্যানেলসহ রামপালে দাউদখালী, তেতুলিয়া , বেলাই ও বগুড়া নদীসহ অর্ধশতাধিক খাল খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে দাউদখালী নদী থেকে অবৈধভাবে সবচেয়ে বেশি বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এই নদীতে ভাঙন দেখা দিলে গোবিন্দপুর আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শগ্রাম জামে মসজিদসহ অসংখ্য বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকার দুই ব্যক্তি কমিশন বাণিজ্যে গোবিন্দপুর এলাকায় ড্রেজার নিয়ন্ত্রণ করছে। মোংলার বুড়িরডাঙ্গা, দিগরাজ, সোনাইলতলা, আমড়াতলা, মিঠাখালী, জয়মনীসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

মাঠ প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সরকার সারা দেশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু বালু উত্তোলন নয়, যেকোনো অবৈধ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার পরও রামপাল ও মোংলায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রামপালে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে ম্যানেজ করে কাজ করতে হয়। আগে যৌখালী নদী থেকে যখন বালু উত্তোলন করতাম তখন ফয়লাহাট পুলিশ ক্যাম্পের এক সাবেক আইসি ও হোগলডাঙ্গা গ্রামের এক ব্যক্তিকে টাকা দিতে হতো।’

এ ব্যাপারে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধন চন্দ  বিশ্বাস বলেন, মাটির নিচ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। তার পরও কিছু কিছু লোক বিভিন্ন বাড়িঘরের চারপাশ, পুকুর, ডোবা, ছোট ছোট রাস্তা ও  ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বালুমাটি ভরাট করছে। যেহেতু সরকারি নির্দেশনা এসেছে সেহেতু আর ছাড় দেওয়া হবে না।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা