kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

নদের বুকে বালুর জ্বালা

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র খননের পর স্তূপ করে রাখা বালু অপসারণ না করায় সরু হয়ে যাচ্ছে নদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নদের বুকে বালুর জ্বালা

ময়মনসিংহের ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া সড়কের পোড়াবাড়ী বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে গতকাল একটি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে যায়। এতে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে সড়ক যোগাযোগ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদ খনন চলছে বছরখানেক ধরে। কিন্তু খননের পর বিপুল পরিমাণ বালু নদের বুকেই ফেলে রাখা হয়েছে। এতে নদের প্রশস্ততা আগের চেয়ে কমে আসছে। নদের এমন দৃশ্য দেখে খনন করা বালু দ্রুত অপসারণের দাবি উঠেছে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও মহল থেকে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন খননের নামে ব্রহ্মপুত্রকে খাল বানানোর অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটি দ্রুত খনন হওয়া বালু অপসারণের দাবি জানিয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলমান বর্ষায় ব্রহ্মপুত্র নদের খনন করা বালুর বেশির ভাগই সরানো হয়নি। শহরসংলগ্ন নদের অংশে পাহাড়সম স্তূপ করে রাখা হয়েছে বালু। যদিও তদারকির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) জানিয়েছিল, বর্ষার আগেই এসব বালু নদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু কথা রাখেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে এসব বালু বৃষ্টি আর নদের পানির স্রোতে আবার নদেই গিয়ে মিশে যাচ্ছে। অনেক বালুর স্তূপে স্থাপনাও গড়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কাগজপত্রে ব্রহ্মপুত্র নদ খননের কাজটি শুরু হয় ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। কিন্তু নদে ড্রেজার এনে খননকাজ শুরু হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। পুরো প্রকল্পটি পাঁচ বছরের। পুরনো ব্রহ্মপুত্রের ২২৭ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। গফরগাঁওয়ের টোক থেকে জামালপুরের পোললাকান্দি পর্যন্ত খনন হবে। ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।

বহুল আলোচিত প্রকল্পটি চালুর পর ময়মনসিংহবাসীর মাঝে উৎসাহের সৃষ্টি হয়। অনেক নাগরিক নদের তীরে গিয়ে খননকাজ দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। কিন্তু শহরসংলগ্ন অংশে নদের বুকেই খনন করা বালু থেকে যাওয়ায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে। করোনা সংকটে লকডাউনের সময় উত্তোলন করা বালু অপসারণ পুরোপুরি বন্ধ থাকে। তখন পরিবহন সংকট, শ্রমিক সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্তূপ করে রাখা বালু আর অপসারণ করা যায়নি। এ কারণে নগরের জুবিলী ঘাট, কালবাড়ী, পার্ক এলাকা, পুলিশ লাইন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নদের তীরে বিপুল পরিমাণ বালু স্তূপাকারে জমে থাকে। কর্তৃপক্ষ আশা করছিল, লকডাউন উঠে যাওয়ার পর খনন করা বালু অপসারণে সক্ষম হবে তারা। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। এরপর চলে আসে বর্ষা, আসে বন্যা। এখন পানি কমায় পাহাড়সম বালুর স্তূপ আবার জেগে উঠেছে। অনেক স্থানে বালু আবার নদের পানিতে গিয়ে মিশেছে।

বিআইডাব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং প্রকল্পের পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার বলেন, নগরসংলগ্ন কিছু অংশে বালু রয়ে গেছে। এসব বালু সরানোর জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

মন্তব্য