kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পকেট ভরেন সমন্বয়কারী

রাঙ্গাবালীতে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প ♦ সই জাল ♦ ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পকেট ভরেন সমন্বয়কারী

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পে অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। সই জাল করে সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতার ১৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সমন্বয়কারী গোলাম আযমের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। তবে সমন্বয়কারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন অর্থবছরের ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের (পূর্বের নাম একটি বাড়ি একটি খামার) সভাপতি-ব্যবস্থাপকের সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতা না দিয়ে সমন্বয়কারী তা আত্মসাৎ করেন। চলতি বছরের ১৪ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এমন একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গুনি ৭ নম্বর গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপক রেদওয়ানুর রহমানের দেওয়া এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রিপন খন্দকারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের গ্রাম উন্নয়ন সমিতি পরিচালনা করার জন্য দুই বছর সম্মানী ভাতা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলায় কর্মরত ৪৫ জন সভাপতি ও ব্যবস্থাপকের কেউ সেই সম্মানী ভাতা পাননি। তাঁরা লিখিতভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে এটা জানান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছয় লাখ ৭২ হাজার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক লাখ ৭৭ হাজার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুই লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা কলাপাড়া হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে সম্মানী ভাতা তোলা হয়।

শুধু তা-ই নয়, সমিতির সভাপতি ও ব্যবস্থাপকের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ বাবদ বরাদ্দ টাকাও আত্মসাতের তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সমিতির ৪৫ জন সভাপতি ও ব্যবস্থাপক কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা প্রশিক্ষণের ভাতা পাননি। তবে বিল ভাউচার যাচাই করে দেখা যায়, প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ৪ জুন ৪৯ হাজার, ২০১৬ সালের ১৯ জুন দুটি বিলে এক লাখ ৭৬ হাজার, ২০১৭ সালের ২০ জুন তিনটি বিলে ৮৭ হাজার টাকা কলাপাড়া হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে তোলা হয়।

তদন্ত চলাকালে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের কার্যালয়ে ইন্টারনেট হাব স্থাপনের জন্য এক লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শন করে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ২১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ প্রতিবেদনটি দাখিল করা হলে প্রমাণাদি সংযুক্ত করে প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কাছে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রিপন খন্দকার বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

সমন্বয়কারী গোলাম আযম বলেন, ‘প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের সব বিলের আয়-ব্যয় কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। নির্বাহী এবং সমন্বয়কারীর যৌথ স্বাক্ষরে উপজেলা পর্যায়ের সব টাকা তোলা হয়। নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথ খাতে ব্যয় করা হয়। এই অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। একটি কুচক্রী মহল আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য