kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাটুরিয়ায় দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ

চেয়ারম্যানের লোভ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদের টাকার লোভের কারণে দরিদ্রদের ঘর নির্মাণ শেষ হচ্ছে না। গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ বিনা মূল্যে নির্মাণ করে দেওয়ার কথা।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাইদ ইউনিয়নে মোট চারটি বাসগৃহ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১০ ফুট বাই ১০ ফুট মাপের দুটি ঘর, একটি ল্যাট্রিন, একটি রান্নাঘর, বারান্দাসহ একটি বাসগৃহের নির্মাণ খরচ বাবদ বরাদ্দ দুই লাখ ৯৯ হাজার টাকা। বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির কোনো টাকা লাগে না। কিন্তু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁর চাহিদা অনুযায়ী যে টাকা দিতে পেরেছে, তাঁকেই বরাদ্দ দিয়েছেন।

বরাইদ ইউপির আগ সাভার গ্রামের আ. সাত্তার কানুর ছেলে মো. শাহিনুর একটি বাসগৃহের বরাদ্দ পেয়েছেন। তখন তিনি বিদেশে ছিলেন। এখনো বিদেশে অবস্থান করছেন। তাঁর স্ত্রী শেফালী আক্তার জানান, চেয়ারম্যানকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে স্বামীর নামে ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কিন্তু অর্ধেক কাজ করে এখন আরো ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন চেয়ারম্যান। টাকা না দিলে কাজ শেষ করবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। শেফালী আক্তার বলেন, স্বামী বিদেশে থাকলেও সেখানে কোনো কাজ নেই। উল্টো তাঁকেই টাকা পাঠাতে হয়। দুই সন্তান নিয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে থাকেন। ঘরের জন্য ৫০ হাজার টাকা বাবা এবং ভাইদের কাছ থেকে নিয়ে চেয়ারম্যানকে দিয়েছেন। কিন্তু বাকি ১০ হাজার টাকা দেওয়ার মতো অবস্থা তাঁর নেই।

এদিকে মো. শাহিনুরের বরাদ্দকৃত বাসগৃহ নির্মাণকাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারায় সাটুরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউপি চেয়ারম্যানকে তিন দফায় কারণ দর্শানো নোটিশ দেন। সর্বশেষ নোটিশ দেন গত ৩ সেপ্টেম্বর।

চেয়ারম্যানকে একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে উত্তর বরাইদ গ্রামের নজরুল ইসলাম, আগ সাভার গ্রামের মোহিরন বেগমের বাসগৃহ নির্মাণকাজ শেষ না করার জন্য।

ইউপি চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ টাকা-পয়সা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে  বলেন, ‘বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।’

সাটুরিয়ার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ বলেন, ‘বাসগৃহ বরাদ্দ বাবদ কোনো টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় তিন দফায় চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

সাটুরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘টাকা-পয়সা নিয়ে ঘর বরাদ্দের বিষয়ে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা