kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কোয়ারেন্টিন বাণিজ্য

কুদ্দুস বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম (আঞ্চলিক)   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোয়ারেন্টিন বাণিজ্য

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমেনুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। করোনা রোগীদের কোয়ারেন্টিনের খরচ কর্মকর্তা পকেটে ভরেছেন। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় ২০ লাখ টাকা তুলে তা একা ভোগ করেছেন। এ নিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-নার্স ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিভাগে জেনারেটরের বাল্ব জ্বলে না কখনো। সোলার প্যানেল ও আইপিএসের সুবিধা থাকায় জেনারেটর চালুর প্রয়োজন হয় না খুব একটা। জেনারেটর চালু না হলেও তার জ্বালানি খরচের বিল তোলা হয় প্রতি মাসে। গেল জুনে ভুয়া বিল-ভাউচারে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বাবদ প্রায় দুই লাখ টাকা বিল তুলে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালে ফার্নিচার কেনা ও সম্মেলনকক্ষ সংস্কার বাবদ প্রায় ১৩ লাখ টাকার বিল ওঠানো হয়েছে। বাস্তবে কম দামের কয়েকটি চেয়ার ও টেবিল কেনা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক একজন কর্মচারী বলেন, ‘সম্মেলনকক্ষ সংস্কার দেখিয়ে চার লাখ টাকা বিল করা হয়েছে। অথচ সংস্কার তো দূরের কথা, কোনো প্রকার ধোয়া-মোছাই করা হয়নি।’

গত অর্থবছরের জুন ক্লোজিংয়ে ডেঙ্গু ও করোনা খাতের সরকারি বরাদ্দ পাঁচ লাখ টাকা সম্পূর্ণ ভুয়া বিল-ভাউচারে তুলে নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য কীট কেনার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দুই লাখ টাকা ওঠানো হয়েছে। অথচ ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য একটা কীটও কেনা হয়নি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীও ছিল না রৌমারীতে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন খরচ বাবদ বরাদ্দ তিন লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স যাঁরা করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেবেন তাঁদের খাওয়া-দাওয়াসহ অন্য খরচ মেটানো হবে। বরাদ্দ সব টাকা ঠিকই তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু করোনা রোগীদের যাঁরা চিকিৎসা দিয়েছেন তাঁদের একটি টাকাও দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক একজন নার্স তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছি আমরা। অথচ সরকারি টাকা আমাদের দেওয়া হয়নি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক হাসপাতালের একজন নার্স বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীকে এ টেস্ট, ও টেস্ট এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কাগজ হাতে ধরিয়ে পাঠানো হয় হাসপাতালের বাইরে রৌমারী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।’ ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ডা. মোমেনুল ইসলাম।

‘সরকারি সম্পত্তি’ অপছন্দ

চলতি বছরের প্রথম দিকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নামে সরকারিভাবে একটা বিলাসবহুল জিপগাড়ি সরবরাহ করা হয়। চিকিৎসাসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কাজে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা ওই গাড়ির বাঁ পাশে ‘সরকারি সম্পত্তি’ লেখা একটি স্টিকার ছিল। গাড়ি থেকে সেই স্টিকার ঘষে মুছে তুলে ফেলা হয়েছে। যাতে সহজে কেউ বুঝতে পারবে না—এটা সরকারি সম্পদ।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. মোমেনুল ইসলাম বলেন, ‘ভুয়া বিল-ভাউচারে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা মিথ্যা। ডেঙ্গু খাতের টাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট কেনা হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগও মিথ্যা-বানোয়াট। জিপগাড়ি থেকে সরকারি সম্পত্তি লেখাযুক্ত স্টিকার মুছে ফেলেছি, তাতে সমস্যা কোথায়? স্টিকার থাকায় ভালো দেখা যাচ্ছিল না। এ কারণে আমি এটা করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা