kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বগুড়ার শেরপুর

দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে খাল খনন বন্ধ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের শিমলা-সাতবাড়িয়া সরকারি খাল খননের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মাধ্যে চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে খাল খননের কার্যক্রম গত সাত দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষ শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

শেরপুর উপজেলা কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গত ১৫ মে শিমলা-সাতবাড়িয়া সরকারি খালটির খননকাজ শুরু করা হয়। খালটির দৈর্ঘ্য দুই কিলোমিটার। খননের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। খননকাজ শেষ হওয়ার কথা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। তবে এরই মধ্যে খালটি খননের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু শিমলা গ্রামে খনন কার্যক্রম চলার সময় আজিজুল হক খালের মধ্যে তাঁর নিজস্ব জমি আছে দাবি করে বাধা দেন। এরপর থেকেই খননকাজ বন্ধ রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, খালের মধ্যে কৃষক আজিজুল হকের নিজস্ব জমি রয়েছে বলে দাবি করে খননকাজে বাধা দেন। এ কারণে খননকাজ বন্ধ রেখেছেন।

শিমলা গ্রামের কৃষক আজিজুল হক জানান, যে জমির ওপর দিয়ে খাল খনন করা হচ্ছে, তা তাঁদের পরিবারের কেনা সম্পত্তি। দুটি দাগে তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ ৫২ শতাংশ। সর্বশেষ মাঠ খতিয়ান তাঁদের নামে হয়েছে। ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এ জমিতে চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। জমিটি তাঁদের সম্পত্তি হওয়ায় খননকাজে নিষেধ করেছেন। এ ছাড়া খাল খননের নকশাতেও সেটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে। তার পরও খাল খননের নকশা পরিবর্তন করে তাঁদের ব্যক্তিমালিকাধীন জায়গা দিয়ে খাল খননের চেষ্টা চলছে।

এদিকে শিমলা গ্রামবাসীর পক্ষে এ বিষয়ে কথা বলেন মশিউর রহমান। তিনি জানান, এই মৌজার জমিগুলো পাশের মৌজাগুলোর চেয়ে অন্তত পাঁচ ফুট নিচু। এ কারণে প্রতিবছর অতিবৃষ্টিতে মাঠের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার আগেই পানিতে ডুবে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে এ মৌজায় অন্তত ৩০০ একর জমির চাষাবাদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত কৃষকরা।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিবাদমান দুই পক্ষকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা