kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জালিয়াতির ওস্তাদ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জালিয়াতির ওস্তাদ

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমির নামজারির জন্য প্রয়োজনীয় ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ) ফরম জাল করা হচ্ছে। শুধু এ ফরম না, নামজারি ইস্যুর ক্ষেত্রে জাল করা হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল এবং স্বাক্ষরও। আর ভূমি অফিসের কর্মচারী ওবাইদুর রহমান এতে জড়িত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নামজারি করতে আসা জমির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। জালিয়াতির শিকার এক ব্যক্তি সম্প্র্রতি দুপচাঁচিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর এ-সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তা জানাজানি হয়।

এ ঘটনায় দুপচাঁচিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী ওবাইদুরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দায় সেরেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধ করলেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

খিদিরপাড়ার বাসিন্দা আবু সাঈদ সুজা গত ১২ আগস্ট স্থানীয় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, নাতনিসহ পাঁচ আত্মীয়ের মালিকানাধীন জমিগুলোর নামজারি করার জন্য তিনি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের অফিস সহকারী ওবাইদুর রহমানের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ১৮ হাজার টাকা জমা দেন। ৪৫ দিন পর তাঁকে ডেকে নিয়ে পাঁচটি খারিজের (নামজারি) ডিসিআর দেন ওবাইদুর। ডিসিআরগুলো নিয়ে জিয়ানগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়। এরপর সেগুলোর বিপরীতে খতিয়ান চাইলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা তাঁকে জানান, ওই পাঁচটি ডিসিআরই ভুয়া। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি এক হাজার ১৫০ টাকা হলেও ওবাইদুর রহমান তিন হাজার ৬০০ টাকা করে নিয়েছেন।’

ওই অভিযোগটিতে দেখা গেছে, প্রতিটি ডিসিআরের বই ও পৃষ্ঠা নম্বর পৃথক হওয়ার কথা থাকলেও বেশ কয়েকটিতে তা একই। এ ছাড়া প্রতিটি ডিসিআরে ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি)’ ও ‘নাজির’ হিসেবে যাদের স্বাক্ষর রয়েছে সেগুলোও জাল।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত জানান, ওবাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে পাঁচটি নয়, মোট ১২টি ডিসিআর জাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তা ছাড়া তিনি অর্পিত সম্পত্তির বরাদ্দ বাবদ প্রায় তিন লাখ টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখেছিলেন। এসব অপরাধে তাঁকে গত ৯ আগস্ট সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে গত ১৯ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ওবাইদুরের ফোনে কল দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল মালেক বলেন, ‘ওবাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে গেলে যিনি বাদী হবেন তাঁকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতে একাধিকবার আসা-যাওয়া করতে হবে, এটা অনেক সময় পারা যায় না। তাই বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বগুড়ার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাছুদার রহমান হেলাল বলেন, ‘যেহেতু জাল ফরম পাওয়া গেছে, সে ক্ষেত্রে মনে হয় এই জালিয়াতির সঙ্গে একটি চক্র জড়িত। তারা অন্যান্য ভূমি অফিসেও সক্রিয় রয়েছে। রাজস্ব বিভাগকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া দরকার।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা