kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অসময়ে যমুনায় ভাঙন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসময়ে যমুনায় ভাঙন

যমুনায় ফের পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জে নদীতীরবর্তী অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ছবিটি এনায়েতপুরের পাকুতলা এলাকার। ছবি : কালের কণ্ঠ

চলতি মৌসুমে চতুর্থবারের মতো যমুনা নদীতে পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও চৌহালী উপজেলার নদীতীরবর্তী অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। পাঁচ দিন ধরে যমুনা নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির পর গতকাল কিছুটা থমকে রয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই নদীতীরবর্তী অঞ্চলে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। অসময়ে যমুনায় পানি বাড়ায় গত তিন দিনে এনায়েতপুরের দক্ষিণ অংশের প্রায় ৬০টি বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানায়, গত মঙ্গলবার তাঁত ও চিকিৎসাসেবাসমৃদ্ধ এনায়েতপুর থানার আরকান্দি, বাঐখোলা, ঘাটাবাড়ী ও পাকুরতলা এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে ভাঙন। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ৬০টি বসতভিটা, কয়েক শ একর আবাদি জমি।

এদিকে অব্যাহত ভাঙনে তাত্ক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান রক্ষায় জরুরিভাবে তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে জানান স্থানীয়রা।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পাকুরতলা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, শুধু সঠিক পরিকল্পনা আর তদারকির অভাবে এ এলাকার ভাঙন থামছে না। প্রতিবছরই নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। একই গ্রামের আব্দুল আজিজ, সোবাহান মিয়া ও মুসলিম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে চোখের সামনে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে, এলাকায় স্থায়ী বাঁধ হবে। কিন্তু কবে হবে—তা বোঝা যাচ্ছে না। গ্রামের সেলিম মিয়া জানান, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কাজ শুরু না করলে জেলার দক্ষিণ জনপদের এই অংশটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জানান, যমুনার ভাঙন রোধে টেকসই তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একদিকে যেমন নদীশাসন হবে, অন্যদিকে রক্ষা পাবে নদীর পারের মানুষ। তিনি তাঁতশিল্পসমৃদ্ধ এনায়তপুর থানা রক্ষায় দ্রুত তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহল অবগত আছে। এ ছাড়া এনায়েতপুরে সাড়ে ছয় কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা