kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যমুনার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে দুটি বিদ্যালয়

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যমুনার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে দুটি বিদ্যালয়

বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর বৈশাখ চর বিলীন হওয়ার পর বানিয়াজান গ্রামের চল্লিশপাড়ায় স্থানান্তরিত বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যমুনার ভাঙনে তিনবার বিলীন হয়েছে। সর্বশেষ বিলীন হয়েছে ২০১৯ সালে। ধীরে ধীরে চলে গেছে শিক্ষার্থীরাও। বর্তমানে পড়াশোনা করছে মাত্র ৫২ জন শিক্ষার্থী। চারজন শিক্ষক থাকলেও একজনকে পারিবারিক মামলার কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে। বারবার ঠিকানা পরিবর্তন ও শিক্ষার্থী হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ১৩৫ বছরের পুরনো এ বিদ্যালয়টি। একই চিত্র পাশের ৫০ বছরের পুরনো বৈশাখী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির।

জানা গেছে, বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৮৮৫ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি কয়েক দফা যমুনায় বিলীন হয়। প্রায় ২৬ বছর আগে যমুনার বুকে আবার জেগে ওঠে বৈশাখী চর। বিদ্যালয়টি খুঁজে পায় হারানো ঠিকানা। বৈশাখী চরে ২০১১ সালে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। ওই সময় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বৈশাখী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও একই স্থানে নেওয়া হয়। নানা সমস্যার মাঝে সেখানেই চলতে থাকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। কিন্তু সেখানেও বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি বিদ্যালয় দুটি। ভাঙনের কারণে ২০১৯ সালের জুন মাসে বিদ্যালয় দুটি চর থেকে চার কিলোমিটার দূরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিম পাশে বানিয়াজান চল্লিশপাড়ায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টিনের ঘর তুলে কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে বিদ্যালয় দুটির কার্যক্রম।

বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পেতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। বৈশাখী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হক জানান, সভাপতি ও এলাকাবাসীর অনুদানে টিনের তৈরি একটি ঘর ওঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে পাঠদানের পরিবেশ নেই।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, যমুনা নদীর ভাঙন এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বিষয়ে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা নিরসন করা হবে। 

এদিকে বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার কমে গতকাল দুপুরে বিপত্সীমার ছয় সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় যমুনার পানি বেড়ে বিপত্সীমা অতিক্রম করে। এর ফলে তীব্র স্রোতে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। এতে সারিয়াকান্দি উপজেলার দুর্গম দলিকার চর নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। এরই মধ্যে দলিকার চরের ২৪০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গৃহহারা হয়েছে সহস্রাধিক মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বগুড়ার উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তাই আর বন্যার আশঙ্কা নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা