kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পূরণ হয়নি লক্ষ্য

জয়পুরহাটে ধান-চাল কেনা কার্যক্রম

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সময় বাড়িয়েও জয়পুরহাটে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি জেলা খাদ্য বিভাগ। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় লোকসানের কারণে চাল দিতে পারেননি মিলাররা। আর বাজারে ধানের দাম বেশি পেয়ে সরকার নির্ধারিত দামে ধান বেচতে আগ্রহ হারিয়েছেন কৃষকরা।

বর্ধিত সময় অনুযায়ী ১৫ সেপ্টেম্বর সংগ্রহ অভিযানের শেষ দিন পর্যন্ত জয়পুরহাটে বরাদ্দের মাত্র ৭০ শতাংশ চাল সংগ্রহ হয়েছে। মিলারদের দাবি, সরকার ধানের চেয়ে চালের মূল্য কম নির্ধারণ করায় প্রতি কেজিতে ছয় টাকা লোকসানের কারণে চুক্তি করেও চাল পরিশোধ করতে পারেননি তাঁরা। এ ছাড়া মৌসুমের শুরু থেকে করোনা এবং ঘন বর্ষার কারণেও চাল তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

বোরো মৌসুমে এবার জয়পুরহাটে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৭০৯ টন। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৬৯৬ টন। অর্থাৎ সরকারি বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। একইভাবে ২১ হাজার ১৭৫ টন সিদ্ধ চাল এবং এক হাজার ১৭৮ টন আতপ চাল সরবরাহের চুক্তি করেন ৪৬৫ জন মিলার। কিন্তু গত ৭ মে থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিলাররা সরকারি খাদ্যগুদামে ১৪ হাজার ৭৬০ টন সিদ্ধ চাল এবং ৫২০ টন আতপ চাল সরবরাহ করেছেন।

মিলারদের অভিযোগ, সরকার ধানের সঙ্গে চালের সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ না করায় এবার বোরো মৌসুমে তাঁদের লোকসান হয়েছে। একই সময়ে ধান এবং চাল কেনার পাশাপাশি মহামারি করোনাভাইরাস এবং দীর্ঘমেয়াদি বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ে চালকল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার বোরো চাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। তাঁরা বলেন, সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলেও সে অনুযায়ী প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের দাম নির্ধারণ করেছে ৩৬ টাকা। আর প্রতি কেজি আতপ চালের দাম নির্ধারণ করেছে ৩৫ টাকা। অথচ দেড় কেজি ধান থেকে সিদ্ধ চাল উৎপাদন হয় এক কেজি। ধানের দামের তুলনায় সে ক্ষেত্রে চালের সর্বনিম্ন দাম হয় ৩৯ টাকা। সংগ্রহ অভিযান চলাকালে চালের দাম কেজিপ্রতি চার টাকা বাড়ানো এবং প্রণোদনার জন্য জেলা মিল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি।

ক্ষেতলাল উপজেলার সাগরামপুরের আল তাহসিন অ্যাগ্রো প্রসেসিংয়ের মালিক নুরুল আমিন বকুল বলেন, বোরো মৌসুমে ৭৭৫ টন চাল বরাদ্দ পেয়ে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ১৩৫ টন চাল সরবরাহ করলেও মের শেষ সপ্তাহে দুই দফার প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে তাঁর নিজেরসহ কয়েকটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় চালকল লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ফলে খাদ্যগুদামে অবশিষ্ট চাল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি কে এম লায়েক আলী বলেন, ‘সরকারের ভুল নীতির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশ চাল সংগ্রহ হয়েছে। এর জন্য ধান-চালের অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ দায়ী।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা