kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বগুড়ার শেরপুর

স্কুলের সম্পদ লোপাট করলেন সভাপতি

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্কুলের সম্পদ লোপাট করলেন সভাপতি

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গাড়ীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির জন্য কাটছে শ্রমিকরা। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য গাড়ীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ফলে স্কুলটির পাকা ভবনসহ সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে। কেটে ফেলতে হবে বড় বড় সাতটি গাছও। এ সুযোগে নিলাম ডাক ছাড়াই সম্প্রতি স্কুলটির প্রায় চার লাখ টাকার সম্পদ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোকাব্বর হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি গাড়ীদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও গাড়ীদহ ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কসংলগ্ন গাড়িদহ মৌজায় ৫১ শতক জমির ওপর ১৯১৪ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি পাকা ভবন, দক্ষিণ পাশে আধাপাকা চারটি শ্রেণিকক্ষ আছে। আর ফাঁকা জায়গায় আছে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছপালা। মহাসড়কটির সম্প্রসারণ কাজের জন্য স্কুলের ১১ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ফলে স্কুলের পশ্চিম পাশের প্রধান ফটকসহ একতলাবিশিষ্ট পাকা ভবন ও আধাপাকা দুটি শ্রেণিকক্ষসহ সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে, কেটে ফেলতে হবে সাতটি গাছ। এ সুযোগে গত তিন দিনে অবৈধভাবে স্কুলের প্রায় চার লাখ টাকা দামের মালামাল লুট করেছেন সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোকাব্বর।    

তবে অভিযুক্ত মোকাব্বর বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে স্কুলের সম্পদ নিয়ে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে এসব সম্পদ কিভাবে বিক্রি করবেন তা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। আমি শুধু শিক্ষা কর্তকর্তার নির্দেশ পালন করেছি মাত্র।’

অন্যদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগম অভিযোগ করেন, ‘স্কুল পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এ কারণে কমিটির কোনো বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তাই স্কুলের ভবন ভাঙা ও গাছ কাটার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তার পরও সভাপতি আমাকে না জানিয়ে স্কুলের সম্পদ নিয়ে গেছেন।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মিনা খাতুন বলেন, ‘নিলাম ডাক ছাড়াই স্কুলের ভবন ভাঙা হলেও ভবনের মালামাল ও কেটে ফেলা গাছের অংশ রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য সভাপতিকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ছাড়া ইউএনও লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ‘স্কুলের গাছ, ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নিয়ম অনুযায়ী অপসারণ করার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইন মানা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ লুটপাট করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা