kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দুর্নীতির মাস্টার কালাম

ইয়াদুল মোমিন, মেহেরপুর   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতির মাস্টার কালাম

আবুল কালাম আযাদ

মেহেরপুর সদর উপজেলার বর্শিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠাকালীন ও জমিদাতা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির তালিকা থেকে বাদ, স্ত্রীকে তিন পদে চাকরির সুপারিশসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ২০০৬ সালের একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামিও তিনি। তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় কুমার চাকী, সদ্যোবিদায়ি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা শান্তি এসব দুর্নীতির মদদদাতা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগসহ উচ্চ আদালতে রিট করলেও টনক নড়েনি আযাদের। শিক্ষকদের করা অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিভা রাণী পাঠক। তবে তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তামূলক আচরণ না করায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিষ্ঠাকালীন সহকারী প্রধান শিক্ষক মসিউর রহমানের বাবা আব্দুল হামিদ বিশ্বাস বিদ্যালয়কে ৪০ শতাংশ জমি দান করেন। শর্ত ছিল, তাঁর ছেলে মসিউরকে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও পুত্রবধূ শারমিন নাহারকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। শর্ত মোতাবেক নিয়োগ দিলেও এমপিওভুক্তির তালিকা থেকে তাঁদের দুজনসহ প্রতিষ্ঠাকালীন সাত শিক্ষকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ থেকে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আযাদ ২০১৯ সালের জুলাই মাসে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তকরণের জন্য একটি তালিকা পাঠান। তালিকায় সহকারী প্রধান শিক্ষক মসিউর রহমান, সহকারী শিক্ষক শারমিন নাহারসহ প্রতিষ্ঠাকালীন সাত শিক্ষকের নাম দেননি। তবে পাঠানো তালিকায় তাঁর স্ত্রীকে তিন পদে নিয়োগ দেখিয়েছেন। অথচ তা ভালোভাবে পর্যাবেক্ষণ না করে তালিকাটি এমপিওভুক্তকরণের জন্য চূড়ান্ত করে উপজেলা, জেলা এমনকি বিভাগীয় অফিস। এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষক তাঁর ভাতিজা আবু সাইদকে অফিস সহকারী ও ভাগ্নে আঁখি তারাকে লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিবারতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে।

এদিকে স্থানীয় শরিফুল ইসলাম রাজনগর দাখিল মাদরাসায় দপ্তরি পদে চাকরি করলেও বর্শিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। সভাপতি গোলাম মোস্তফা শান্তির ছেলে সাদ্দাম হোসেন সরকারি প্রকল্পে চাকরি করলেও এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন-ভাতাসহ বিদ্যালয়ের সব সুবিধা ভোগ করছেন। জাফরুল ইসলাম, জাহানারা খাতুন, আনিছুর রহমান, শাহ আলম কোনো দিন বিদ্যালয়ে না গিয়েও এমপিওভুক্ত হয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আযাদ বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়সংক্রান্ত কোনো দুর্নীতি করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা