kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিনা টিকিট ফাঁদ

চিলাহাটি রেলস্টেশন

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনা টিকিট ফাঁদ

চিলাহাটি স্টেশন মাস্টারের বইয়ে লিপিবদ্ধ অভিযোগ (বাঁয়ে) ও জরিমানা আদায়ের রসিদ।

কাউন্টার থেকে কখনো কখনো বলা হয় বিদ্যুৎ নেই; টিকিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কখনো বা বলা হয় সব আসনের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। একপর্যায়ে বলা হয় ট্রেনে ওঠার পর চেকার বা গার্ডের কাছ থেকে টিকিট কেটে নেবেন। কিন্তু ট্রেনে উঠে টিকিট নিলে যাত্রীদের কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। রসিদ চাইলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। এভাবেই বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠতে বাধ্য করা হচ্ছে যাত্রীদের। এ চিত্র নীলফামারীর ডোমারের চিলাহাটি স্টেশনের।

জানা যায়, চিলাহাটি স্টেশন থেকে প্রতিদিন ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীর উদ্দেশে আন্ত নগর নীলসাগর, রূপসা, সীমান্ত, তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যায়। এসব ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে স্টেশনকর্মীদের যোগসাজশ আছে বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি বুকিং সহকারীর কথামতো টিকিট ছাড়া ট্রেনে উঠে নাজেহাল হয়েছেন মো. আশরাফুল হক। এ ঘটনায় সেদিনই স্টেশন মাস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে টিকিটের জন্য কাউন্টারে গেলে বুকিং সহকারী নাসির উদ্দিন সাগর তাঁকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, টিকিট দেওয়ার সুযোগ নেই। ট্রেনে গার্ডের কাছে বলে টিকিট কেটে নেবেন।’

এ সময় ট্রেনের গার্ড তরিকুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় আশরাফুল তাঁদের সামনেই ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে জানান। পরে ট্রেনে ওঠার পর গার্ড তরিকুলের কাছে টিকিট চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে ফোন করেছেন কেন?’ এ সময় টিকিটের ব্যবস্থা না করে আশরাফুলের সঙ্গে তর্কে জড়ান তিনি। ট্রেনটি সৈয়দপুর স্টেশনে পৌঁছলে গার্ড তাঁকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে পুলিশ তাঁকে প্ল্যাটফর্মে ট্রেন টিকিট কালেক্টরের (টিটিসি) কাছে নিয়ে ৬৫ টাকা ভাড়ার বিপরীতে ৫২০ টাকার রসিদ কেটে দেয়। একই সঙ্গে গার্ড তরিকুলের কাছে রশিদ ছাড়া ভাড়া পরিশোধ করা ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আশরাফুলের অভিযোগ, ‘প্রতিনিয়ত এ চক্রটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাত্রীদের বিনা টিকিটে ভ্রমণে বাধ্য করছে। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। প্রতিবাদ করলে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীকে। তাদের এ অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাকেও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।’

আরেক যাত্রী সাজু ইসলামের অভিযোগ, ‘ব্যাবসায়িক কাজে প্রায়ই আমাকে ট্রেনে চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর যেতে হয়। বেশির ভাগ সময় কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে ট্রেনে কর্তব্যরতদের কাছে টাকা দিতে হয়। এ জন্য কোনো ধরনের রসিদ দেন না তাঁরা।’

চিলাহাটির মাদরাসা শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষক হয়ে অনিয়ম করতে বিবেকে বাধে। কিন্তু বাধ্য হয়ে এ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে একাধিকবার।’

গত বৃহস্পতিবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের কাছে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এ সময় তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া অনিয়ম দূর করতে ট্রেনের টিকিটিং ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিলাহাটি স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল মমিন বলেন, ‘লকডাউন পরিস্থিতির পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কাউন্টারে টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে। সেদিন রূপসা ট্রেনটির সময় বিদ্যুৎ না থাকায় টিকিট দেওয়া সম্ভব হয়নি। আশরাফুল হক সাহেবের সঙ্গে ট্রেনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন আচরণ করা উচিত হয়নি। আমি তাঁর অভিযোগটি পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।’

তাঁর দাবি, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে টিকিট দেওয়ার জন্য জেনারেটর চালানোর কথা। স্টেশনে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ না করায় সেটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ পেলে এ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।’

মন্তব্য