kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঝালকাঠি

নারী নির্যাতনে জোট আ. লীগ-বিএনপি!

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারী নির্যাতনে জোট আ. লীগ-বিএনপি!

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসুমি কেকা ও শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপুসহ ছয়জনের নামে আদালতে মামলা হয়েছে। এক নারীকে অপহরণ ও নির্যাতন করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এই মামলা হয়।

ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ নির্যাতিত নারী পারভীন আক্তার (৩০) এই মামলা করেন। আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ সদর থানার ওসিকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বাদীর সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদানের আদেশ দেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন তাপুর বোন সেলিনা আক্তার লাকি ও আইরীন পারভীন অ্যানি; মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রাখি আক্তার এবং ফাতেমা শরীফ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার বোরহান উদ্দিন খান তাঁর প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকিকে এক বছর আগে তালাক দেন। পরে তিনি গত ১০ জুলাই পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁরা ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি জেলা পরিষদের সামনে কাদের কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রথম স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের লোকজন। গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকি, তাঁর ভাই আনিসুর রহমান তাপু ও তাঁর সহযোগী শারমিন মৌসুমি কেকাসহ ৮-১০ জন তাঁদের বাসায় যায়। এই সময় তারা ঘরের ভেতরে ঢুকে পারভীনকে মারধর করে। তারা ওয়ার্ডরোব ভেঙে দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। পরে ওই নারীকে অপহরণ করে শহরের ভিআইপি সড়কের হিলটন নামে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। রাতভর তার ওপর নির্যাতন করে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুন লাগিয়ে দেয়। নির্যাতন শেষে ওই নারীর চুল কেটে দেয় তারা। পরে তাঁর কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে সই নেওয়া হয়। ওই নারীর ভাই নুরুজ্জামান হাওলাদারকে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় আসামিরা। পরের দিন দুপুরে মুক্তিপণের টাকা দিলে নির্যাতিতকে প্রায় অচেতন অবস্থায় ছেড়ে দেয় আসামিরা। নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে পারভীন আক্তার বলেন, ‘শারমিন মৌসুমি কেকা, তাপু, তাঁর বোন ও সহযোগিরা মিলে আমাকে সারা রাত নির্যাতন চালিয়ে একপর্যায়ে কিছু কাগজপত্রে সই নেয়। আমাকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেয়। তাদের ভয়ে আমি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাও করাতে পারিনি।’

পারভীনের স্বামী বোরহান উদ্দিন খান বলেন, ‘কেকা ও তাপুর ভয়ে আমার স্ত্রীকে সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে রাখি। সেখানে লোক পাঠিয়েও আসামিরা আমার স্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে গুম ও খুন করে ফেলার ঘোষণা দেয়। আমরা তাদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। মামলা করার পরও আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

মামলার আসামি বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমার বোনকে সঠিক নিয়মে তালাক দেওয়া হয়নি। সে এখনো বোরহানের স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। এ ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো।’

আওয়ামী লীগ নেত্রী শারমিন বলেন, ‘পারিবারিক একটি ঘটনায় আমাকে অহেতুক জড়ানো হয়েছে। সামনে পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে আমি মেয়র পদপ্রার্থী, তাই আমাকে রাজনৈকিভাবে হেয় করার জন্য মামলায় জড়ানো হয়েছে।’

ঝালকাঠি থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন, ‘মামলার কাগজপত্র এখনো হাতে এসে পৌঁছায়নি। আদালতের আদেশ পেলে, নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য