kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বগুড়া

৭৮ বিদ্যালয়ের দেড় কোটি টাকা নয়ছয়

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭৮ বিদ্যালয়ের দেড় কোটি টাকা নয়ছয়

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চণ্ডিজান পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের নামে কাগজে-কলমে দুই লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে কয়েক দিন পরই ভবনটি এক লাখ ১৪ হাজার টাকায় নিলামে বেচা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় বগুড়ার শেরপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের নামে এক কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশির ভাগ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সহযোগিতায় কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট করেছেন ৭৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ১৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ৬৪টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে দুই লাখ টাকা করে এক কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং ১৪টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে দেড় লাখ টাকা করে ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ক্ষুদ্র মেরামতের এসব কাজ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) মাধ্যমে করার কথা ছিল। কিন্তু বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক কাগজে-কলমে প্রাক্কলন ও কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগই আত্মসাৎ করেছেন।

সম্প্রতি শেরপুর সরকারি প্রাথমিক, খামারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিয়াবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, মেরামতের দুই লাখ টাকা দিয়ে দৃশ্যমান কোনো কাজই করা হয়নি। বেশির ভাগ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ অন্য সদস্যরা বরাদ্দের ব্যাপারে জানেনই না।

আরো জানা যায়, চণ্ডিজান পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি এক লাখ ১৪ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে। অথচ এই বিদ্যালয়ের ভবন মেরামতের জন্য দুই মাস আগে দুই লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে মেরমাতের প্রয়োজন না থাকলে বরাদ্দের টাকা ফেরত পাঠানোর নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

খানপুর কয়েরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেরামতের জন্য দুই লাখ টাকার মধ্যে ২৬ হাজার টাকা ভ্যাট কাটা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকৌশল অফিসে প্রাক্কলন তৈরির জন্য পাঁচ হাজার টাকা খরচ দিতে হয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে প্রাক্কলন মোতাবেক স্কুলের জলছাদ মেরামত এবং শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।’

টুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরেফা খাতুন বলেন, ‘মেরামতের টাকা দিয়ে ছয়টি চেয়ার বানানো হয়েছে। একটি শহীদ মিনার করেছি। কিছুু কাজ এখনো বাকি আছে।’

সুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন রাখী বলেন, ‘বন্যার কারণে ৩০ জুনের মধ্যে বিদ্যালয়ের মেরামতকাজ করা যায়নি। কিছুদিনের মধ্যেই কাজ করা হবে।’

কেল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের বাইরের

অংশে রং করা হয়েছে। এ ছাড়া আর কী কাজ করা হয়েছে, বলতে পারব না।’

বাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, ‘স্কুলের মেরামতের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে শুনেছি, কিন্তু কাজের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

খানপুর কয়েরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক শুধু আমাদের কাছ থেকে কাগজে সই নেন। কী কাজ করেন তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মিনা পারভীন বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাদ্দপ্রাপ্ত সব টাকাই বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। তবে উপজেলার কালিয়াকৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামতের জন্য দুই খাতে বরাদ্দ আসায় একটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।’ এ ছাড়া ক্ষুদ্র মেরামতকাজে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মন্তব্য