kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

জল কমলেও জ্বালা কমেনি

সুন্দরগঞ্জে বন্যায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি শুরু হয়নি পুনর্বাসন

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জল কমলেও জ্বালা কমেনি

ধরলার প্রবল ভাঙনে ভিটেহারা পরিবারগুলো নৌকাযোগে ঘরের চালা ও মালামাল এনে খোলা জায়গায় রাখছে। পরে নৌকায় অন্যত্র নিয়ে যায়। ছবিটি গতকাল সদর উপজেলার সারডোব গ্রাম থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়ে লাখো মানুষ। ফলে বছরের শুরুর দিকেই তিস্তার চরাঞ্চলের দিনমজুর পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে। এর পরে দুই দফা ভয়াবহ বন্যায় নানামুখী দুর্ভোগে পড়ে তারা। ভারি বর্ষণ আর উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় খাবার সংকটের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয় আশ্রয় সংকট। এই জনপদের লাখো মানুষ খাদ্য আর আশ্রয় খুঁজতেই এখন নাজেহাল। এরই মধ্যে পানি কমলেও তাদের ভোগান্তি কমেনি। 

জানা গেছে, চলতি বছরের দীর্ঘস্থায়ী দুই দফা বন্যায় উপজেলার সাত ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চরাঞ্চলের কাঁচাপাকা সড়ক, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হলেও এখনো ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটি ও একটি পৌরসভায় টানা ভারি বর্ষণে রাস্তাঘাট কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তিস্তা নদীবেষ্টিত সাত ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় কাঁচাপাকা সড়কগুলো ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতু, কালভার্ট ও বাঁশের সাঁকো। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পাঠানো তালিকায় এসব ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। 

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হলো তারপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, কঞ্চিবাড়ী, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া। বন্যাকবলিত সাত ইউনিয়নের ১৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ৫৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ও ৭০ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা পানির তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়াও এসব এলাকার ১৮টি ছোট-বড় ব্রিজ-কালভার্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। আর তিস্তার চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী লুতফুল হাসান বলেন, চলতি বছরে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় কাউকে সহায়তা করা সম্ভব হয়নি। তবে নদীভাঙনে গৃহহীনদের মধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তা চলমান রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা